Homeকলকাতাবেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার সোমনাথ দে, আরজি করের সৎকার মামলায় তিন অভিযুক্তই পুলিশের জালে

বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার সোমনাথ দে, আরজি করের সৎকার মামলায় তিন অভিযুক্তই পুলিশের জালে

নিউজ ডেস্ক; আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার অভিযোগের তদন্তে এ বার গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান
resizeplus_Screenshot 2026-09-03 112951_edited

নিউজ ডেস্ক; আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার অভিযোগের তদন্তে এ বার গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে। বেঙ্গালুরুর একটি অতিথিশালা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে তোলা হবে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই মামলায় এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ওরফে নান্টু ঘোষ এবং প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলার তথা নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। সোমনাথ দে-র গ্রেফতারের ফলে নির্যাতিতার বাবার অভিযোগে নাম থাকা তিন জনই এখন পুলিশের হাতে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সৎকারের ঘটনার আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেই দিকেই নজর তদন্তকারীদের।

৯ অগস্টের ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর নির্যাতিতার দেহ দাহ করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পরিবার। অভিযোগ ছিল, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়। এমনকী, দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত করানোর যে দাবি পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল, তা-ও মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতার বাবার দাবি, দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের উপস্থিতি ও ভূমিকার কারণেই দেহ দ্রুত দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারিত হবে।

আগে গ্রেফতার নির্মল ও সঞ্জীব

এই মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় নির্মল ঘোষ ওরফে নান্টু ঘোষকে। তিনি পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক ছিলেন। পরে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। তিনি আগে সিপিএমের কাউন্সিলার ছিলেন এবং পরে তৃণমূলে যোগ দেন বলে জানা গিয়েছে।

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, শ্মশানে মেয়ের দেহ দ্রুত দাহ করার জন্য তাঁরা উদ্যোগী হয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।

এই মামলায় তিন জনের নামই ছিল। সোমনাথ দে-র গ্রেফতারের পর এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুর অতিথিশালায় ধরা পড়লেন সোমনাথ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সোমনাথ দে-র খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সন্ধান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে বেঙ্গালুরুর একটি অতিথিশালায় তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সেখানেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাঁকে বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে তোলা হবে। ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি পাওয়া গেলে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে এনে খড়দহ থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

তদন্তকারীদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সোমনাথ দে-র বক্তব্য। সৎকারের সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের অভিযোগের পিছনে আর কোনও ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন করে তদন্ত

রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই সৎকারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। নির্যাতিতার বাবা খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়।

গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, মূল তদন্তের পাশাপাশি সৎকারের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সিবিআই তদন্তের আওতার বাইরে থাকা কোনও বিষয় থাকলে রাজ্য পুলিশ সেখানে তদন্ত করতে পারে।

সেই বক্তব্যের পরই দেহ সৎকারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা হয়।

সৎকারের প্রক্রিয়া নিয়েই মূল অভিযোগ

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, মেয়ের দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পর দ্রুত দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী, সৎকারের প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে সৎকারের তালিকা এবং স্বাক্ষর না নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি যথাযথ ভাবে নেওয়া হয়নি। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপে

সোমনাথ দে-র গ্রেফতারের পর এই মামলায় তিন অভিযুক্তই পুলিশের হাতে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সৎকারের ঘটনাক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের পিছনে থাকা তথ্য খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, দেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল, কারা সেই সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন এবং পরিবারের দাবি কেন মানা হয়নি। এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত আরও এগোতে পারে।

তবে এখনই কোনও নতুন নাম বা বৃহত্তর যোগসূত্রের কথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে। সোমনাথ দে-র গ্রেফতারির পর এই মামলায় আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved