Homeরাজ্যউদ্বোধনের মাসও পেরোয়নি, ১৫ দিনেই আয়ুষ্মানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ১৯,৭৩৯ জনের! ভিন রাজ্যেও পরিষেবা

উদ্বোধনের মাসও পেরোয়নি, ১৫ দিনেই আয়ুষ্মানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ১৯,৭৩৯ জনের! ভিন রাজ্যেও পরিষেবা

নিউজ ডেস্ক; উদ্বোধনের এক মাসও এখনও পূর্ণ হয়নি। তার আগেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেন প্রায়
resizeplus_images (1)

নিউজ ডেস্ক; উদ্বোধনের এক মাসও এখনও পূর্ণ হয়নি। তার আগেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। মাত্র ১৫ দিনের হিসাবেই রাজ্যের ১৯ হাজার ৭৩৯ জন উপভোক্তা এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৫২ জন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা নিয়েছেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন থেকে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলার সময় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রকল্পের পরিষেবা বাস্তবে কতটা কাজে আসছে, তা বোঝার জন্য মঙ্গলবার কয়েকটি জেলার উপভোক্তা পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ভাবে ১০০ জন সুবিধাভোগীর সঙ্গে কথোপকথনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, কালিম্পং-সহ বিভিন্ন জেলার সাতটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি ভিডিয়ো কলে কথা বলেন তিনি।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, তা যাচাই করার পাশাপাশি চিকিৎসার অভিজ্ঞতাও জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসার আগে এবং পরে তাঁদের পরিস্থিতি কেমন ছিল, হাসপাতালে পরিষেবা পেতে কোনও সমস্যা হয়েছে কি না, চিকিৎসার জন্য পরিবারের উপর আর্থিক চাপ পড়েছে কি না—এই ধরনের বিষয় নিয়ে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

এই কথোপকথনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্ব ছিল বীরভূমের চার বছরের শিশু ফারহান আলিকে ঘিরে। শিশুটির বাবা আসগার আলির সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারটি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছে বলে জানানো হয়। চিকিৎসার পরে ফারহানের শারীরিক পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট কি না—সেই বিষয়েও খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় অঙ্কের খরচ অনেক সময় সাধারণ পরিবারের কাছে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শিশুর চিকিৎসা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে বহু পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হয় অথবা ঋণ নিতে হয়। সেই জায়গায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ অর্থ না দিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার বিষয়টি পরিবারগুলির কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হয় এ দিনের কর্মসূচিতে।

সোনারপুরের বাসিন্দা গোপাল মণ্ডলের সঙ্গেও ভিডিয়ো কলে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তিনি ডিসান হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসায় মোট ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় সেই চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীকে জানান গোপাল।

গোপালের সঙ্গে কথোপকথনে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা এবং হাসপাতালের পরিষেবা সম্পর্কে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসার মতো ব্যয়বহুল ক্ষেত্রে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ফলে পরিবারের আর্থিক চাপ কতটা কমেছে, সেই দিকটিও আলোচনায় উঠে আসে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে শুধু কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকার সুবিধাভোগীরাই ছিলেন না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি এবং কালিম্পং-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ফলে প্রকল্পটি ভৌগোলিক ভাবে কতটা বিস্তৃত এলাকায় পৌঁছচ্ছে, সেই ছবিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অর্থাৎ সরকারি প্রকল্পের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়ে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।

সরকারের তরফে যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে ভিন রাজ্যে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ৪৫২ জন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে পরিষেবা নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যের হাসপাতালেও চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাজ্যের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হলে সাধারণত যাতায়াত, থাকা এবং চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তার উপর বড় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্য বিমা বা নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

এ দিনের কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও মানুষের ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়কে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, সরকার সকল মানুষের জন্যই কাজ করছে। আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছে রাজ্য সরকার।

তবে প্রকল্পের বাস্তব সাফল্য বিচার করতে শুধু উপভোক্তার সংখ্যা নয়, পরিষেবার ধারাবাহিকতা, হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার মান, প্রকল্পের আওতায় কোন কোন চিকিৎসা ও হাসপাতাল রয়েছে এবং উপভোক্তাদের কোথাও কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে কি না—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা হলে প্রকল্পটির বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মাত্র ১৫ দিনের পরিসংখ্যানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বড় সংখ্যা। তার মধ্যে ভিন রাজ্যে চিকিৎসা নেওয়া ৪৫২ জনের তথ্যও আলাদা ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবারের ভিডিয়ো কনফারেন্সে সাতটি পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি কথোপকথন সেই পরিষেবার মানবিক দিকটি সামনে এনেছে।

একদিকে হৃদরোগের চিকিৎসায় লক্ষাধিক টাকার খরচ, অন্যদিকে চার বছরের শিশুর চিকিৎসা—দুই ধরনের পরিবারের অভিজ্ঞতাই এ দিনের আলোচনায় উঠে এসেছে। ফলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচের বোঝা কতটা কমছে, সেটিই এখন নজরের কেন্দ্রে।

সরকারি সূত্রে পাওয়া এই পরিসংখ্যান আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই আশা প্রশাসনের। প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি মানুষকে আনা এবং চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা থাকলে তা দূর করাই এখন মূল লক্ষ্য বলে সরকারি মহলের বক্তব্য। আর সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা বাস্তবে কতটা সহজলভ্য হচ্ছে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতায়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved