Homeনদিয়াশান্তিপুরস্কুলে ঢুকলেই অভিভাবকের মোবাইলে বার্তা! শান্তিপুরের প্রাথমিক স্কুলে চালু RFID ডিজিটাল হাজিরা

স্কুলে ঢুকলেই অভিভাবকের মোবাইলে বার্তা! শান্তিপুরের প্রাথমিক স্কুলে চালু RFID ডিজিটাল হাজিরা

নিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নদিয়ার শান্তিপুরে। এবার স্কুলে পড়ুয়া ঢুকলেই কিংবা ছুটির
resizeplus_Untitled Design (2) (1)

নিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নদিয়ার শান্তিপুরে। এবার স্কুলে পড়ুয়া ঢুকলেই কিংবা ছুটির পরে স্কুল থেকে বেরোলেই তার অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে স্বয়ংক্রিয় বার্তা। পড়ুয়ার উপস্থিতি নিয়ে অভিভাবকদের আর স্কুলের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। শুধু হাজিরা নয়, পরীক্ষার ফলাফল, রিপোর্ট কার্ড থেকে শুরু করে অনলাইন মূল্যায়ন—একাধিক পরিষেবা এবার ঘরে বসেই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন তাঁরা।

শান্তিপুরের সর্বানন্দীপাড়ার কানাই বঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হল RFID ডিজিটাল হাজিরা, ডিজিটাল স্কুল ম্যানেজমেন্ট এবং পেরেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্কুল পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা এবং পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুরের বিধায়ক তথা শিক্ষক স্বপন কুমার দাস এবং শান্তিপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সেলিম দফাদার। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্যান্যদের উপস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

স্কুলে ঢোকা-বেরোনোর খবর পৌঁছবে মোবাইলে

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল RFID-ভিত্তিক ডিজিটাল হাজিরা। এর মাধ্যমে কোনও পড়ুয়া স্কুলে প্রবেশ করার সময় এবং ছুটির পরে বিদ্যালয় থেকে বেরোনোর সময় তার উপস্থিতির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য অভিভাবকের মোবাইলেও পৌঁছে যাবে।

ফলে কর্মব্যস্ত অভিভাবকদের পক্ষে সন্তানের স্কুলে পৌঁছনো এবং স্কুল থেকে বেরোনোর বিষয়টি সরাসরি নজরে রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ছোট পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এত দিন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান স্কুলে ঠিকমতো পৌঁছেছে কি না বা ছুটির পরে কখন বেরিয়েছে, তা জানতে অভিভাবকদের শিক্ষক বা অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হত। নতুন প্রযুক্তির ফলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।

শুধু হাজিরা নয়, পড়াশোনার খবরও হাতের মুঠোয়

এই উদ্যোগের সুবিধা শুধুমাত্র উপস্থিতি নথিভুক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্কুলের ERP এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

পরীক্ষার ফলাফল দেখা, রিপোর্ট কার্ড ডাউনলোড করা এবং শিক্ষার্থীর সার্বিক অ্যাকাডেমিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন মূল্যায়নেও অংশ নেওয়া যাবে।

অর্থাৎ, সন্তানের পড়াশোনার বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের যোগাযোগ আরও নিয়মিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাড়িতে বসেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার ফলে অভিভাবকেরা সন্তানের পড়াশোনার দুর্বলতা বা অগ্রগতির বিষয়ে দ্রুত ধারণা করতে পারবেন।

স্কুল-অভিভাবক যোগাযোগে নতুন মডেল

শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্কুল ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ। পড়ুয়ার উপস্থিতি, ফলাফল, মূল্যায়ন এবং পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে অভিভাবকেরাও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারেন।

কানাই বঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন পেরেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম সেই যোগাযোগকেই আরও সহজ করার চেষ্টা করছে। স্কুলের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগের জন্য আলাদা করে বারবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই একাধিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, এর ফলে শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রেও তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হবে।

প্রযুক্তি যেন শুধু প্রদর্শন না হয়, বার্তা প্রধান শিক্ষকের

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতীম সেন জানিয়েছেন, প্রযুক্তিকে শুধুমাত্র প্রদর্শনীর বিষয় হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য তাঁদের নয়। বরং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বাস্তব সুবিধা দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্কুলে যে ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা, উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির উপর নজর রাখার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। অভিভাবকেরাও যাতে ঘরে বসে সন্তানের পড়াশোনা ও স্কুল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন, সেই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা

স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল পরিষেবা এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সেই প্রযুক্তিকে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে স্থানীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

একদিকে যেমন পড়ুয়ার স্কুলে প্রবেশ এবং প্রস্থানের তথ্য অভিভাবকের কাছে পৌঁছবে, অন্য দিকে একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষাগত তথ্যও পাওয়া যাবে। ফলে উপস্থিতি থেকে মূল্যায়ন—একাধিক বিষয়কে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। শিশু স্কুলে নিয়মিত যাচ্ছে কি না, পরীক্ষায় কেমন ফল করছে, পড়াশোনার কোথায় সমস্যা হচ্ছে—এই সমস্ত বিষয়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

শান্তিপুরে প্রশংসা

মঙ্গলবার উদ্বোধনের পর এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে RFID হাজিরা এবং পেরেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম চালু হওয়াকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আগামী দিনে প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার করে পড়ুয়াদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। প্রযুক্তি এবং শিক্ষার এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার দিকে নজর থাকবে অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষামহলেরও।

সব মিলিয়ে, শান্তিপুরের কানাই বঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। স্কুলে উপস্থিতি থেকে রিপোর্ট কার্ড—সন্তানের শিক্ষাজীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যখন অভিভাবকের হাতের মুঠোয়, তখন স্কুল-অভিভাবক যোগাযোগও যে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved