Homeঅন্যান্যমাসে মাত্র ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত এসআইপি! ২৫ বছরে কোটি টাকার জাদুকরী ফারাক গড়বে ‘স্টেপ-আপ’ কৌশল

মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত এসআইপি! ২৫ বছরে কোটি টাকার জাদুকরী ফারাক গড়বে ‘স্টেপ-আপ’ কৌশল

নিউজ ডেস্ক: মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে সঠিক দিশা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সম্পদ বা ‘কর্পাস’ তৈরির অন্যতম সেরা মাধ্যম মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট
resizeplus_c4eb58d8-95c2-4bc0-a49c-f966f2861203

নিউজ ডেস্ক: মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে সঠিক দিশা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সম্পদ বা ‘কর্পাস’ তৈরির অন্যতম সেরা মাধ্যম মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP)। তবে কেবল নিয়ম করে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেই ক্ষান্ত থাকলে চলবে না; সেই সঞ্চয়ে যদি দেওয়া যায় সঠিক ‘স্টেপ-আপ’ (Step-Up)-এর ছোঁয়া, তবে সাধারণ আমানতকারীর রিটার্ন পৌঁছাতে পারে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অঙ্কে! হিসাব বলছে, প্রতি মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলে এবং প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে তা বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে মূল পুঁজিতে যুক্ত হতে পারে অতিরিক্ত লাখ লাখ বা কোটি টাকা।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের বাজারে সাধারণ এসআইপি-র চেয়ে ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’ অনেক বেশি কার্যকর। কারণ সময়ের সাথে সাথে সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়। সেই বর্ধিত আয়ের অন্তত ১০ শতাংশ যদি বার্ষিক এসআইপি-তে যুক্ত করা যায়, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Effect) ম্যাজিক সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে।

১৫ ও ২০ বছরের হিসাবের তুলনামূলক চিত্র: ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা দিয়ে একটি এসআইপি শুরু করলেন এবং প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলেন। বাজার থেকে যদি গড়ে ১২ শতাংশ বার্ষিক প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে ১৫ বছর পর তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। এই সময়ে আনুমানিক রিটার্ন মিলবে ৬৫ লক্ষ ৭ হাজার ৮৫৭ টাকা এবং সর্বমোট কর্পাসের পরিমাণ হবে ৯৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৫৭ টাকা (প্রায় ১ কোটি টাকা)।

এবার এই একই অঙ্কে যদি তিনি মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে মাসে ৬,০০০ টাকা দিয়ে এসআইপি শুরু করেন এবং প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে স্টেপ-আপ বজায় রাখেন, তবে ২০ বছরের মেয়াদে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ আনুমানিক রিটার্নের হিসাবে মোট জমা পুঁজিতে দাঁড়াবে ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৯৯ টাকা এবং অর্জিত রিটার্ন হবে ৭৮ লক্ষ ৯ হাজার ৪ ২৯ টাকা। অর্থাৎ ২০ বছর শেষে সর্বমোট মেচিউরিটি ভ্যালু বা কর্পাস গিয়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ২২৯ টাকায়। অর্থাৎ প্রাথমিক বিনিয়োগে মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ২০ বছর পর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বাড়তি ব্যবধান গড়ে দিচ্ছে!

২৫ বছরের মেয়াদে জাদুকরী প্রভাব: সময়সীমা যত বাড়বে, কম্পাউন্ডিংয়ের জাদু তত বেশি দৃশ্যমান হবে। ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যদি কেউ মাসে ৫,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করে ১০ শতাংশ স্টেপ-আপ করেন, তবে ১২ শতাংশ গড় রিটার্নে তাঁর মোট গচ্ছিত সম্পদ দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা।

কিন্তু যদি ওই বিনিয়োগকারী শুরুর দিন থেকেই ৫,০০০ টাকার পরিবর্তে ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে ৬,০০০ টাকার এসআইপি শুরু করতেন, তবে ২৫ বছর পর তাঁর জমা হওয়া মোট কর্পাস গিয়ে ঠেকবে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকায়! অর্থাৎ শুরুর সামান্য ১,০০০ টাকার অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত দীর্ঘ ২৫ বছর পর আমানতকারীর ঝুলিতে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার বিপুল অতিরিক্ত রিটার্ন এনে দিচ্ছে।

বাজারভিত্তিক ঝুঁকি ও সতর্কতা: তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই স্মরণ করিয়ে দেন যে, শেয়ারবাজার বা মিউচুয়াল ফান্ড বাজারভিত্তিক ঝুঁকিসাপেক্ষ। এখানে নির্দিষ্ট কোনও রিটার্নের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অর্থনীতির ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত পাওয়া অর্থ কিছুটা কম বা বেশি হতেই পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অবসরকালীন পরিকল্পনা বা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চয় বাড়িয়ে যাওয়ার এই কৌশল চক্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার সেরা রাস্তা বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved