Homeপশ্চিম মেদিনীপুরবেলদাশিল্পীদের নিরাপত্তায় পুলিশের দ্বারস্থ বিশ্বনাথ, বেলদায় রাখি পরিয়ে মেলবন্ধনের বার্তা

শিল্পীদের নিরাপত্তায় পুলিশের দ্বারস্থ বিশ্বনাথ, বেলদায় রাখি পরিয়ে মেলবন্ধনের বার্তা

নিউজ ডেস্ক; শীতের মরশুমে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কলকাতা-সহ নানা জায়গা থেকে অভিনেতা,
Screenshot 2026-08-28 141420_edited

নিউজ ডেস্ক; শীতের মরশুমে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কলকাতা-সহ নানা জায়গা থেকে অভিনেতা, গায়ক ও মঞ্চশিল্পীরা সেই অনুষ্ঠানগুলিতে যোগ দিতে আসেন। কিন্তু অনুষ্ঠান করতে এসে শিল্পীদের একাংশকে কখনও হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রেও নানা সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিল্পীদের পাশে স্থানীয় প্রশাসন যাতে আরও সক্রিয় ভাবে থাকে, সেই বার্তা নিয়েই বেলদায় এলেন অভিনেতা ও স্টেজ পারফর্মার বিশ্বনাথ বসু।

বৃহস্পতিবার বেলদায় এসে পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সৌহার্দ্য ও সম্পর্কের মেলবন্ধনের বার্তা দিতে পুলিশকর্মী এবং বিধায়ককে রাখি পরান বিশ্বনাথ। এর পরে মিষ্টিমুখও করান। তবে এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র রাখি উৎসবের সৌজন্য বিনিময় ছিল না। শিল্পীরা যাতে অনুষ্ঠান করতে এসে কোনও ধরনের সমস্যায় না পড়েন, প্রশাসনের সহযোগিতায় যাতে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই বিষয়টিই আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিশ্বনাথ নিজেও দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে অনুষ্ঠান করে আসছেন। ফলে স্টেজ পারফর্মারদের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে। এ বার তিনি ‘বেঙ্গল স্টেজ পারফর্মার্স গিল্ড’ (বিএসপিজি)-এর সম্পাদক হয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে কাজ করে চলা এই সংগঠনের সঙ্গে এত দিন সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। সম্পাদক হওয়ার পর শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

শীতের সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়, বেলদা-সহ বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বেড়ে যায়। কলকাতা এবং অন্যান্য জায়গা থেকে শিল্পীরা সেখানে পারফর্ম করতে আসেন। স্থানীয় দর্শকদের কাছে এই অনুষ্ঠানগুলি যেমন বিনোদনের বড় মাধ্যম, তেমনই মঞ্চশিল্পীদের কাছেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে কখনও কখনও শিল্পীদের হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। কোনও অনুষ্ঠানে আয়োজকদের সঙ্গে সমস্যা, আবার কোনও ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীদের যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে শিল্পীদের আরও নিবিড় যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিশ্বনাথ।

বেলদায় এসে সেই বিষয়েই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানো— সব ক্ষেত্রেই প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও শিল্পীদের পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

রাখি পরানোর প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন বিশ্বনাথ। তাঁর কথায়, “যাতে পুলিশ প্রশাসন আমাদের আরও সাহায্য করেন, সে জন্য রাখি পূর্ণিমার আগে আর এক বার সম্পর্কের মেলবন্ধ ঘটাতেই এখানে আসা।” অর্থাৎ রাখির মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে শিল্পী মহলের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।

বিশ্বনাথের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বও। বিএসপিজি-র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্পীদের নিরাপত্তা, পারিশ্রমিক, অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিতে সংগঠন আরও সক্রিয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে যাওয়া শিল্পীদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

এ দিন নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরির সঙ্গেও দেখা করেন বিশ্বনাথ। তবে বিধায়ক জানিয়েছেন, বেলদা কলেজের একটি অনুষ্ঠানে থাকার সময়ই তাঁর সঙ্গে অভিনেতার দেখা হয়। রমাপ্রসাদ বলেন, “আমি বেলদা কলেজের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। সেখানেই এসেছিলেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু।”

স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলের মতে, শিল্পী ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই আগেভাগে এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বাইরে থেকে আসা শিল্পীরা স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সব সময় সম্পূর্ণ অবগত থাকেন না। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকলে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে।

শীতের মরশুমে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কলকাতার পাশাপাশি জেলার বাইরের বহু শিল্পীও সেখানে অংশ নেন। ফলে অনুষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিল্পীরা যাতে মঞ্চে স্বচ্ছন্দে পারফর্ম করতে পারেন এবং অনুষ্ঠান শেষে কোনও আশঙ্কা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্বনাথের বক্তব্যেও সেই বিষয়টিই স্পষ্ট। তাঁর সফরের মধ্যে একদিকে ছিল রাখির সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা, অন্য দিকে ছিল শিল্পীদের বাস্তব সমস্যার কথা প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলে শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

শিল্পীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আয়োজকদের দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, শিল্পীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে তাঁদের নিরাপদে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এই সমন্বিত ব্যবস্থার পক্ষেই কার্যত সওয়াল করেছেন বিশ্বনাথ।

বেলদায় তাঁর এই সফর তাই নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে মঞ্চশিল্পীদের সমস্যাকে সামনে রেখে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির একটি প্রয়াস হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। রাখি পরিয়ে সম্পর্কের মেলবন্ধনের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের আবেদনও জানালেন তিনি। আগামী দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved