Homeকলকাতাক্যামাক স্ট্রিটে হোর্ডিং সরানো ঘিরে ধুন্ধুমার, ৩ মামলায় গ্রেফতার ১৩

ক্যামাক স্ট্রিটে হোর্ডিং সরানো ঘিরে ধুন্ধুমার, ৩ মামলায় গ্রেফতার ১৩

নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে একটি বড় হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩ জনকে। অভিযোগ,
resizeplus_Untitled design (1)

নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে একটি বড় হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩ জনকে। অভিযোগ, একটি বহুতলের উপর থেকে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে থাকা হোর্ডিং সরাতে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। সেই সময় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, সরকারি সরঞ্জাম নিয়ে নেওয়া এবং কর্মীদের উপর হামলার মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের তরফে আলাদা ভাবে মামলা দায়ের হয়েছে। মোট তিনটি মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে ২৭ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে। সংশ্লিষ্ট বহুতলের উপরের অংশ থেকে একটি বড় বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং ঝুলছিল বলে অভিযোগ। সেটি এমন ভাবে ঝুলে ছিল যে তা পথচারী এবং আশপাশের মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের তরফে হোর্ডিংটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসুর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েক জনের নাম রয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি আরও কয়েক জন সমর্থকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

পুরসভার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ অগস্ট দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা কর্মী এবং পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে যান। পুরসভার নির্দেশ মেনেই তাঁরা ওই বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা হোর্ডিং সরানোর কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় ঘটনাস্থলে বেশ কিছু লোক জড়ো হন বলে অভিযোগ।

পুরসভার তরফে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে বেআইনি ভাবে জমায়েত করে আধিকারিক এবং পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের উপর চড়াও হওয়া এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। সরকারি কাজে নিযুক্ত কয়েক জন কর্মী এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, পুরসভার ব্যবহৃত সরকারি সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি নিয়ে নেওয়া এবং আধিকারিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১৯১(২), ১৯১(৩), ১৯০, ১২১(১), ৩৫১(২), ৩০৩(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, বলপ্রয়োগ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এর পাশাপাশি পুলিশের তরফেও পৃথক ভাবে এফআইআর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে গোলমালের খবর আসে। খবর পেয়ে পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিত কুমার মণ্ডল, এসআই ডিকে শ এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তখন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বহুতলের উপর থেকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকা বিলবোর্ড সরানোর কাজ করছিলেন। পুলিশকর্মীরা সেই কাজে সহযোগিতা করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সিঁড়ির কাছে পুলিশকর্মীদের বাধা দেন।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় এক পুলিশকর্মীর সরকারি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা হলে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই ঘটনায় কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ।

আহতদের মধ্যে সার্জেন্ট সুজিত মণ্ডল, এসআই ডিকে শ এবং কনস্টেবল অমিতাভ সাহার নাম জানা গিয়েছে। ঘটনার পর তাঁদের চিকিৎসার জন্য সিএনএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীকে তাঁর দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে আঘাত করা এবং সরকারি সম্পত্তি বা সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ, পুরসভার অভিযোগে তৃণমূলের একাধিক পরিচিত নেতার নাম উঠে এসেছে। তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই তিনি অপরাধ করেছেন—এমনটা বলা যায় না। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তি, ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।

অন্যদিকে, বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং সরানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বড় কোনও বিজ্ঞাপনী কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়লে তা পথচারী, গাড়িচালক এবং আশপাশের ভবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই পুরসভার তরফে এই ধরনের কাঠামো নিয়ম মেনে রাখার উপর বার বার গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাতেও হোর্ডিং সরানোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ থেকেই পরিস্থিতির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। তবে সেই পদক্ষেপ ঘিরে কী ভাবে উত্তেজনা তৈরি হল, কারা প্রথম বাধা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী ধস্তাধস্তিতে কার কী ভূমিকা ছিল—সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুরসভা এবং পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। ক্যামাক স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা কেন ঘটল, তারও উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved