Homeদেশহড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, ১০ টন ত্রাণ ও ওষুধ পাঠাল ভারত

হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, ১০ টন ত্রাণ ও ওষুধ পাঠাল ভারত

নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। বুধবার সকালে রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আচমকা হড়পা বান নামার পর
Screenshot 2026-08-27 125851

নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। বুধবার সকালে রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আচমকা হড়পা বান নামার পর থেকেই একের পর এক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ নেপালের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে ভারত।

নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর পেয়েই বুধবার সকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কথোপকথনে নেপালের এই কঠিন সময়ে ভারত সব রকম সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে পৌঁছে যায় ভারতীয় বিমান।

ভারতের তরফে আপাতত ১০ টন ত্রাণসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৩০ বিমানে করে এই সামগ্রী কাঠমান্ডুতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আগামী দিনে পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী নেপালকে আরও সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, নিখোঁজ বহু

বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান নামার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীর জল আচমকা বেড়ে গিয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয় নেমে আসে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপাল পুলিশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে ১৫৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪০০ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। ফলে নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারের উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপরতা

নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটকদের উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কিছু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলিতে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আটকে পড়া ভারতীয়দের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সি-১৩০ বিমানে পৌঁছল ত্রাণ

নেপালের বিপর্যয়ের পর দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বুধবার রাতেই ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৩০ পরিবহণ বিমানে করে ত্রাণসামগ্রী এবং ওষুধ কাঠমান্ডুতে পৌঁছে যায়।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রী নেপালের পর্যটনমন্ত্রী খড়ক রাজ পাউডেলের হাতে তুলে দেন ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব। বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে।

শুধু ত্রাণ পাঠিয়েই থেমে থাকতে চাইছে না ভারত। পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আগামী দিনগুলিতে আরও মানবিক সাহায্য পাঠানো হতে পারে।

‘নেপালের পাশে ভারত’, বার্তা জয়শঙ্করের

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে ভারত নেপালের পাশে দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ১০ টন ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কাঠমান্ডুতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের এই উদ্যোগকে দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সংকটের সময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নেপালের পাশে WHO এবং রাষ্ট্রপুঞ্জও

শুধু ভারত নয়, নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক স্তর থেকেও সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নেপালে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন মূল লক্ষ্য উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করা, নিখোঁজদের সন্ধান বের করা এবং দুর্গত মানুষদের কাছে খাদ্য, জল, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নানা বাধা আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন নেপালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

প্রতিবেশী দেশের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময়ে ভারতের দ্রুত ত্রাণ পাঠানো এবং আরও সহযোগিতার আশ্বাস নেপালের দুর্গত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। একই সঙ্গে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর দিকেও নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved