Homeদেশডিগ্রি থাকলেও মিলছে না যোগ্য কাজ! নীতি আয়োগের রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারা উন্মোচিত

ডিগ্রি থাকলেও মিলছে না যোগ্য কাজ! নীতি আয়োগের রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারা উন্মোচিত

নিউজ ডেস্ক: শুধুমাত্র সাধারণ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি হাতে থাকলেই কি আর মেলানো সম্ভব স্বপ্নের চাকরি? বিএ, বিএসসি কিংবা বিসিএম
resizeplus_7427b13f-f13d-4810-bb12-271c88457dae

নিউজ ডেস্ক: শুধুমাত্র সাধারণ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি হাতে থাকলেই কি আর মেলানো সম্ভব স্বপ্নের চাকরি? বিএ, বিএসসি কিংবা বিসিএম পাস করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন কি তবে শেষ? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ নীতি আয়োগের (NITI Aayog) প্রকাশ করা একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট কিন্তু এমনই আশঙ্কাজনক ও কড়া সত্য সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। নীতি আয়োগের পেশ করা তথ্যে স্পষ্ট, চিরাচরিত বাঁধাধরা পড়াশোনা আর বর্তমান কর্মসংস্থান বাজারের চাহিদার মধ্যে তৈরি হয়েছে এক বিশাল ব্যবধান।

নীতি আয়োগের ‘Reimagining Skilling for Viksit Bharat 2047’ শীর্ষক রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, দেশে যে গতিতে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে আধুনিক শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার কোনো সামঞ্জস্য নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মাত্র ৮.২৫ শতাংশ মানুষ তাঁদের অর্জিত যোগ্যতা বা ডিগ্রির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ চাকরি করার সুযোগ পান। অর্থাৎ দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি স্নাতক ডিগ্রিধারী এমন সব কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাঁদের পড়াশোনা ও যোগ্যতার মানের চেয়ে অনেক কম। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি হাসিল করলেই হবে না, তার সঙ্গে আধুনিক যুগের উপযোগী দক্ষতা বা ‘স্কিল’ যুক্ত না করলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান মেলা কার্যত অসম্ভব।

২০২৪-২৫ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষার আলোকেও দেশের বেকারত্বের এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে এই রিপোর্টে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও দেশে প্রায় ১৩ শতাংশ পুরুষ স্নাতক এবং ২০.৪ শতাংশ মহিলা স্নাতক পুরোপুরি কর্মহীন। যদিও সর্বভারতীয় স্তরে গড় বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ, তবুও শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে কাজ না পাওয়ার হতাশা তীব্র। তা সত্ত্বেও সরকারি চাকরির মোহে প্রতি বছর কোটি কোটি তরুণ-তরুণী সাধারণ ডিগ্রি কোর্সেই নিজেদের নথিভুক্ত করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৩.৫ কোটিরও বেশি ভর্তি হওয়া পড়ুয়ার মধ্যে প্রায় ২ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী কেবল বিএ, বিএসসি এবং বিসিএম-এর মতো সনাতনী কোর্সে পড়াশোনা করছেন। পরিস্থিতি কতখানি ভয়াবহ, তা স্পষ্ট হয় একটি পরিসংখ্যানে— ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে মাত্র ৫৫ হাজার সরকারি পদের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন জমা পড়েছিল ১.৮৬ কোটিরও বেশি!

দেশের ডিগ্রি কলেজ, আইটিআই এবং পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানগুলির পাঠ্যক্রমের এই কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবার পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জরুরি সুপারিশ করেছে নীতি আয়োগ। গতানুগতিক বিএ, বিএসসি বা বিসিএম-এর মতো সাধারণ কোর্সের জায়গায় ‘বিএ হসপিটালিটি’, ‘বিসিএম অ্যানালিটিক্স’ কিংবা ‘বিএসসি অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি’-র মতো কর্মমুখী ও শিল্পকেন্দ্রিক পাঠ্যক্রম চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঠ্যক্রমের ভেতরেই অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বা শিক্ষানবিশির সুযোগ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। শিক্ষা ও উপার্জনের পথ সমান্তরাল করতে মডিউলার, পার্ট-টাইম এবং হাইব্রিড এডুকেশন মডেল চালুর পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রকেও শিক্ষাব্যবস্থায় অংশীদার করার জোর সুপারিশ এনেছে কেন্দ্রীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved