Homeরাজ্যবাংলায় ৪,১৩৩ স্কুলে পড়ুয়া নেই, তবু কর্মরত ১৯,৫০২ শিক্ষক

বাংলায় ৪,১৩৩ স্কুলে পড়ুয়া নেই, তবু কর্মরত ১৯,৫০২ শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক : ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কোনও পড়ুয়া ভর্তি না থাকা স্কুলের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের
resizeplus_b8c574ce-3e2f-4243-bf51-aafacc35f8fa

নিউজ ডেস্ক : ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কোনও পড়ুয়া ভর্তি না থাকা স্কুলের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত সর্বশেষ ইউডাইস+ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৪,১৩৩টি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য। অথচ ওই স্কুলগুলিতে কর্মরত রয়েছেন ১৯,৫০২ জন শিক্ষক।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজ্যের সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো, পড়ুয়া ভর্তির প্রবণতা এবং শিক্ষক নিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলিতে এত সংখ্যক শিক্ষক কী ভাবে এবং কতটা কার্যকর ভাবে মোতায়েন রয়েছেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক বছরে বেড়েছে ৩২১ স্কুল

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে শূন্য-ভর্তির স্কুলের সংখ্যা ছিল ৩,৮১২। এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,১৩৩—অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২১টি স্কুল।

রাজ্যের এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। ইউডাইস+ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শূন্য-ভর্তির স্কুলের সংখ্যা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৭,৯৯৩ থেকে কমে ২০২৫-২৬-এ হয়েছে ৫,৬৬৩। জাতীয় সংখ্যার একটি বড় অংশই পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলির দখলে রয়েছে।

শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের ভাবনা

শিক্ষা পরিকাঠামোর সঠিক ব্যবহার এবং শিক্ষক ঘাটতি মোকাবিলায় শূন্য ও কম-ভর্তির স্কুল থেকে শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। যেসব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি এবং শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক পাঠানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

তবে স্কুল একীভূতকরণ বা শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় চাহিদা, ভৌগোলিক দূরত্ব, পড়ুয়াদের যাতায়াত এবং প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।

শিক্ষা পরিকাঠামো ব্যবহারে প্রশ্ন

শূন্য-ভর্তির স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ুয়া কমে যাওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্কুলছুট, জনসংখ্যার পরিবর্তন, বেসরকারি স্কুলের প্রতি ঝোঁক এবং বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাগত চাহিদার বদল—সব দিক খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন পরিসংখ্যানের ফলে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো কী ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষক-সহ উপলব্ধ সম্পদ পড়ুয়াদের প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হল।

No Comments

তাজা খবর