Homeঅন্যান্যরাখিতে চিংড়ির নতুন স্বাদ, ২০ মিনিটেই বানান বাটার গার্লিক প্রন!

রাখিতে চিংড়ির নতুন স্বাদ, ২০ মিনিটেই বানান বাটার গার্লিক প্রন!

নিউজ ডেস্ক : রাখি পূর্ণিমার ভোজ মানেই বাঙালি বাড়িতে নানা রকম পদ। পোলাও, মাংস, ইলিশ থেকে শুরু করে চিংড়ির মালাইকারি—উৎসবের
48023e1f-f6c6-42c3-b72f-2940bb3d34d2রাখিতে চিংড়ির নতুন স্বাদ, বানান বাটার গার্লিক প্রন!

নিউজ ডেস্ক : রাখি পূর্ণিমার ভোজ মানেই বাঙালি বাড়িতে নানা রকম পদ। পোলাও, মাংস, ইলিশ থেকে শুরু করে চিংড়ির মালাইকারি—উৎসবের মেনুতে এসব খাবারের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। কিন্তু একই ধরনের রান্না বার বার করতে করতে যদি স্বাদে একটু বদল আনতে চান, তা হলে চিংড়ি দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন একেবারে অন্য রকম একটি পদ। মাখনের নরম স্বাদ, রসুনের ঝাঁঝ এবং হালকা ঝাল মিশিয়ে তৈরি বাটার গার্লিক প্রন হতে পারে রাখির আড্ডায় নতুন চমক।

এই পদটি তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। রান্নার পদ্ধতিও বেশ সহজ। বাড়িতে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ দিয়েই চিংড়িকে দেওয়া যায় রেস্তোরাঁ-ধাঁচের স্বাদ। স্টার্টার হিসেবে পরিবেশন করা যায় এই পদ। আবার চাইলে ভাত, ফ্রায়েড রাইস বা নুডলসের সঙ্গেও পরিবেশন করতে পারেন।

কী কী লাগবে?

বাটার গার্লিক প্রন তৈরির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ভালো মানের মাঝারি বা বড় আকারের চিংড়ি। প্রায় ৫০০ গ্রাম চিংড়ি নিলেই কয়েক জনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ তৈরি হয়ে যাবে।

প্রয়োজন হবে—

  • চিংড়ি মাছ — ৫০০ গ্রাম
  • মাখন — ১ টেবিল চামচ
  • রসুন কুচি — ৩ টেবিল চামচ
  • ধনেপাতা কুচি — ১ টেবিল চামচ
  • চিলি ফ্লেক্স — ১ চা চামচ
  • সাদা তেল — ২ টেবিল চামচ
  • কর্নফ্লাওয়ার — ১ টেবিল চামচ
  • নুন — স্বাদমতো

চাইলে স্বাদের ভারসাম্য অনুযায়ী সামান্য গোলমরিচ বা লেবুর রসও যোগ করতে পারেন। তবে মূল বাটার-গার্লিকের স্বাদ বজায় রাখতে অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার না করাই ভাল।

প্রথম ধাপ: চিংড়ি হালকা ভেজে নিন

রান্নার শুরুতেই চিংড়িগুলি ভাল করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। অতিরিক্ত জল যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। একটি প্যানে দু’টেবিল চামচ সাদা তেল গরম করুন। তেল গরম হয়ে গেলে চিংড়ির সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে প্যানে দিয়ে হালকা করে ভেজে নিন।

এখানে চিংড়িকে খুব বেশি সময় ধরে ভাজার প্রয়োজন নেই। বেশি ভাজলে চিংড়ি শক্ত এবং রাবারের মতো হয়ে যেতে পারে। দু’দিক সামান্য রং বদলালেই প্যান থেকে তুলে আলাদা করে রাখুন।

এর পর ওই একই প্যানে দিন কুচিয়ে রাখা রসুন। রসুনের গন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত হালকা আঁচে নাড়াচাড়া করুন। রসুন যেন পুড়ে না যায়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। রসুন পুড়ে গেলে পুরো পদের স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।

রসুন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে তাতে চিলি ফ্লেক্স এবং ধনেপাতা কুচি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন। এই পর্যায়েই রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়বে রসুন ও মশলার দারুণ সুগন্ধ।

দ্বিতীয় ধাপ: মাখনেই আসবে আসল স্বাদ

এ বার প্যানে যোগ করুন এক টেবিল চামচ মাখন। আঁচ খুব বেশি রাখবেন না। মাখন গলে রসুন ও মশলার সঙ্গে মিশে গেলে তার মধ্যে আগে থেকে ভেজে রাখা চিংড়িগুলি দিয়ে দিন।

স্বাদ অনুযায়ী নুন দিয়ে সবকিছু ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন। চিংড়ির গায়ে যেন মাখন, রসুন এবং চিলি ফ্লেক্সের মিশ্রণ ভাল ভাবে লেগে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন।

এ বার আসবে গ্রেভি তৈরির পালা। একটি ছোট বাটিতে আধ কাপ জলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার ভাল করে গুলে নিন। কোনও দানা যেন না থাকে। তৈরি মিশ্রণটি ধীরে ধীরে প্যানে ঢেলে চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে দিন।

কর্নফ্লাওয়ার দেওয়ার পর ক্রমাগত নাড়াচাড়া করা জরুরি। তা না হলে তলায় লেগে যেতে পারে কিংবা গ্রেভিতে দলা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: ঘন হলেই তৈরি

এ বার মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট রান্না হতে দিন। কর্নফ্লাওয়ারের কারণে ধীরে ধীরে তরলটি ঘন হতে শুরু করবে। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে গ্রেভি যদি চকচকে এবং ঘন হয়ে আসে, বুঝতে হবে বাটার গার্লিক প্রন প্রায় তৈরি।

তবে রান্নার সময় চিংড়িকে অতিরিক্ত সেদ্ধ করবেন না। বেশি সময় আঁচে থাকলে চিংড়ির স্বাভাবিক নরম ভাব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গ্রেভি পছন্দমতো ঘন হয়ে গেলেই গ্যাস বন্ধ করে দিন।

উপরে সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। চাইলে পরিবেশনের আগে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এতে মাখনের ভারী স্বাদের সঙ্গে একটা হালকা টকভাব এসে পদটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

রাখির মেনুতে কেন এই পদ?

রাখির দিন বাড়িতে অতিথি আসা, ভাই-বোনের আড্ডা, খাওয়াদাওয়া—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ থাকে। সেই মেনুতে চিংড়ির মালাইকারি বা সর্ষে চিংড়ি থাকতেই পারে। কিন্তু বাটার গার্লিক প্রন একেবারেই অন্য ধরনের স্বাদ এনে দিতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা কম মশলা দিয়ে চিংড়ির রান্না পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই পদ বেশ উপযোগী। রসুন ও মাখনের গন্ধ চিংড়ির স্বাদকে ঢেকে দেয় না, বরং তাকে আরও খানিকটা বাড়িয়ে তোলে। চিলি ফ্লেক্সের জন্য পাওয়া যায় হালকা ঝাল ঝাল স্বাদ।

আর রান্নার সময়ও খুব বেশি লাগে না। তাই উৎসবের দিনে অনেক পদ রান্নার ব্যস্ততার মধ্যেও এই পদটি সহজেই মেনুতে রাখা যায়।

চিংড়ি খাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?

চিংড়ি প্রাণিজ প্রোটিনের একটি উৎস। এতে ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে চিংড়ি খাওয়া যেতে পারে।

তবে চিংড়ি সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। যাঁদের চিংড়ি বা সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। একই ভাবে কোনও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসক যদি সামুদ্রিক খাবার সীমিত রাখতে বলে থাকেন, তা হলে সেই পরামর্শ মেনে চলাই ভাল।

রান্নায় মাখন এবং তেলের পরিমাণও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্বাদ বজায় রেখেও তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, রাখির মেনুতে এ বার যদি একটু অন্যরকম চিংড়ির পদ রাখতে চান, তা হলে বাটার গার্লিক প্রন হতে পারে সহজ এবং সুস্বাদু বিকল্প। ঝটপট তৈরি, উপকরণও হাতের কাছে—আর টেবিলে পরিবেশন করলেই নজর কেড়ে নেওয়ার মতো একটি পদ।


No Comments

তাজা খবর