
নিউজ ডেস্ক; বাইক ও স্কুটি আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করতে অভিনব উদ্যোগ নিল পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এবার থেকে হেলমেট না থাকলে মদের দোকান থেকেও মদ মিলবে না। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং বাইক-স্কুটি চালকদের নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পেট্রল পাম্পে চালু থাকা ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ নিয়মের আদলেই এবার মদের দোকানে চালু করা হয়েছে ‘নো হেলমেট, নো বিজনেস’ নীতি। অর্থাৎ, বাইক বা স্কুটিতে করে মদ কিনতে আসা কোনও ক্রেতার সঙ্গে হেলমেট না থাকলে তাঁকে মদ বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই মদের দোকানগুলিতে পৌঁছে দিয়েছে জেলা পুলিশ। এলাকার প্রতিটি মদের দোকানের কর্মীদের নির্দেশিকা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের সামনে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে সচেতনতামূলক স্টিকারও। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যবসা বা ক্রেতাকে সমস্যায় ফেলা নয়, বরং বাইক ও স্কুটি আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মদ কেনার পর অনেকেই বাইক বা স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফেরেন। সেই সময় হেলমেট না থাকলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই মদের দোকান থেকেই হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়মটি ঠিকঠাক কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দেখতে নিয়মিত নজরদারি চালাবে পুলিশ। মদের দোকানগুলিতে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর বিষয়টিও নজরে রাখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি মদের দোকান থেকে মদ কেনার পর হেলমেট ছাড়াই বাইক বা স্কুটি নিয়ে রাস্তায় বের হলে প্রথমে তাঁকে আটক করে সতর্ক করা হতে পারে। একই ভুল ফের করলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। প্রয়োজনে জরিমানাও করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মদের দোকানের কর্মীদের একাংশও। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি মদের দোকানের ম্যানেজার কার্তিক শ্যাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা রুখতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, রাস্তায় বেরোনোর সময় প্রত্যেক বাইক ও স্কুটি আরোহীরই হেলমেট পরা উচিত। প্রশাসনের নির্দেশের ফলে অন্তত কিছু মানুষ নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছেন তিনি।
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর একটি নতুন সমস্যার কথাও সামনে এসেছে। আর এক মদের দোকানের ম্যানেজার সুব্রত অধিকারীর দাবি, বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর কয়েকজন হেলমেটহীন বাইক আরোহী দোকান থেকে বেশ কিছুটা দূরে বাইক রেখে পায়ে হেঁটে মদ কিনতে আসছেন। অর্থাৎ, নিয়ম এড়ানোর জন্য কেউ কেউ অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করছেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে নিয়মটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। কারণ শুধু দোকানে হেলমেট দেখে মদ বিক্রি বন্ধ করলেই সড়ক নিরাপত্তার সমস্যা পুরোপুরি মিটবে না। বাইক বা স্কুটি চালানোর সময় হেলমেট পরার পাশাপাশি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর বিষয়েও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হেলমেট না পরা—দুটি বিষয়ই সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি এবং সচেতনতা প্রচারও প্রয়োজন।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। পেট্রল পাম্পের পর এবার মদের দোকানেও ‘নো হেলমেট, নো বিজনেস’ নিয়ম চালু হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, হেলমেট ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এটি নতুন ধরনের পদক্ষেপ। তবে নিয়মের ফাঁক দিয়ে কেউ যাতে ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে না পারেন, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, দুর্ঘটনা রুখতে এবং বাইক-স্কুটি আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম বর্ধমান প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগ কতটা সাফল্য পায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments