Homeরাজ্যসীমান্তের রেলে কড়া নজর, বসছে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা!

সীমান্তের রেলে কড়া নজর, বসছে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা!

নিউজ ডেস্ক : রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রেলপথগুলিতে
resizeplus_August 25, 2026 1022 AM (2)সীমান্তের রেলে কড়া নজর, বসছে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা!

নিউজ ডেস্ক : রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রেলপথগুলিতে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর বন্ধ করতে একাধিক নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রেললাইনের উপরে নজরদারির পাশাপাশি এবার ট্রেনের রেকের নীচের অংশ এবং লাইনের আশপাশেও নজর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেলপথে বসানো হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘আন্ডার-ফ্রেম’ ক্যামেরা।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ক্যামেরার সাহায্যে ট্রেনের নীচের অংশে থাকা রেক, চাকা এবং রেললাইনের আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্বাভাবিক নড়াচড়া কিংবা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনও বিষয় নজরে এলে দ্রুত তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ইতিমধ্যেই রেলের বিভিন্ন অংশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়তি নজরদারি

সীমান্তবর্তী রেলপথের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রেল। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি একাধিক রেলপথ ও ক্রসওভার পয়েন্টকে চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এই কাজে শুধু রেল সুরক্ষা বাহিনী বা আরপিএফ নয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরপিএফের আইজি অমিয় নন্দন সিনহা জানিয়েছেন, রেলযাত্রীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সমস্ত ধরনের নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে অত্যাধুনিক সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় রেলপথের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এই অঞ্চলের রেললাইন দিয়ে নিয়মিত যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেলপথের কোনও অংশে সন্দেহজনক গতিবিধি বা বস্তু ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই নজরদারি আরও দ্রুত এবং কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরায় ট্রেনের নীচেও নজর

রেলের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ‘আন্ডার-ফ্রেম’ ক্যামেরা। সাধারণ ক্যামেরায় স্টেশন চত্বর, প্ল্যাটফর্ম কিংবা ট্রেনের উপরের অংশে নজর রাখা গেলেও ট্রেনের একেবারে নীচের অংশ পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলক কঠিন। সেই জায়গাতেই নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চাইছে রেল।

এই ক্যামেরার মাধ্যমে রেকের নীচের অংশ এবং রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় নজর রাখা যাবে। কোনও অস্বাভাবিক বস্তু বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে তা দ্রুত নিরাপত্তা আধিকারিকদের নজরে আনা সম্ভব হবে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রেলপথে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর। আগামী দিনে সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলিতে এই নজরদারি আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।

বাড়বে ড্রোন নজরদারিও

শুধু স্থায়ী ক্যামেরার উপর নির্ভর করতে চাইছে না রেল। সীমান্ত এলাকায় আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহারের উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। রেললাইন দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় প্রতিটি অংশে সবসময় সরাসরি নজর রাখা কঠিন। সেই জায়গায় ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ড্রোনের মাধ্যমে রেললাইনের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে এমন কোনও জায়গা যেখানে সাধারণ নজরদারি ব্যবস্থা পৌঁছনো কঠিন, সেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে।

রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যামেরা, ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিকে একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হবে। এর ফলে কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সেটি শনাক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানও সহজ হবে।

দুই স্টেশনের মাঝেও বসবে ক্যামেরা

রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও একটি বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা হয়েছে। এত দিন মূলত স্টেশন চত্বরকেই ক্যামেরা নজরদারির আওতায় রাখা হত। এবার দুই স্টেশনের মধ্যবর্তী রেলপথের পাশেও ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ কার্যকর হলে স্টেশন ছেড়ে ট্রেন যখন এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনের দিকে যাবে, সেই সময়ের রেলপথের বিভিন্ন অংশেও নজর রাখা সম্ভব হবে। ফলে স্টেশন এলাকার বাইরে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি থাকলেও তা নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে।

এই ক্যামেরাগুলিতে লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। কোনও ঘটনা নজরে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে ছবি এবং ভিডিয়ো ফুটেজ ভাগ করে নেওয়া হবে। ফলে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী একাধিক সংস্থা দ্রুত সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

FRS প্রযুক্তিতেও বাড়ছে নির্ভরতা

রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বা FRS-এর ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিংবা অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে রেল সূত্রে খবর।

সম্প্রতি FRS প্রযুক্তির সাহায্যে এক অপরাধীকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই সাফল্যের পর আগামী দিনে প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

FRS-এর মাধ্যমে ক্যামেরায় ধরা পড়া মুখের সঙ্গে আগে থেকে থাকা তথ্যের মিল খোঁজার সুযোগ থাকে। ফলে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিরাপত্তার নজরে এলে তাঁকে দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি সহায়ক হতে পারে। রেল স্টেশনের পাশাপাশি রেলপথের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি থাকবে ম্যানুয়াল পেট্রোলিং

রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করে ফেলতে চাইছে না। প্রযুক্তির পাশাপাশি সরেজমিনে রেললাইন পরিদর্শনের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত সেকশনে আরপিএফের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়মিত পায়ে হেঁটে রেললাইন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে কোনও প্রযুক্তিগত নজরদারির বাইরে থাকা সমস্যা কিংবা রেললাইনের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে। কোথাও রেললাইনের ক্ষতি, সন্দেহজনক বস্তু বা অন্য কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অর্থাৎ, রেলের নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় একসঙ্গে চারটি স্তরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—স্থায়ী ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, FRS প্রযুক্তি এবং ম্যানুয়াল পেট্রোলিং। এর সঙ্গে আরপিএফ এবং বিএসএফের মতো নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ানো হচ্ছে।

একাধিক সংস্থার মধ্যে বাড়বে সমন্বয়

সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সমন্বয় বাড়াতে জেলা স্তরের মনিটরিং কমিটিতেও রেলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে রেলের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সামগ্রিক ভাবে, সীমান্তবর্তী রেলপথের নিরাপত্তাকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করে নজরদারি বাড়ানোর পথে হাঁটছে রেল। ট্রেনের নীচের অংশ থেকে রেললাইনের পাশের এলাকা, স্টেশন চত্বর থেকে দুই স্টেশনের মধ্যবর্তী পথ—সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী রেলপথে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা এবং রেল সম্পত্তির সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও শক্তিশালী হতে পারে।


No Comments

তাজা খবর