Homeরাজ্যদক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি, নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি, নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

August 25, 2026 1022 AM (1)দক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি, নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

নিউজ ডেস্ক : ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা পেরিয়ে শরতের আগমন ঘটেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি বর্ষা। উল্টে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশে নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলায় ফের বৃষ্টির দাপট বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিম্নচাপের সঙ্গে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবও রয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতেও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

নিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চরিত্রে বদল এসেছে। উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু জায়গায় ভারী বর্ষণও হতে পারে। ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াতেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাব, বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলই আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে। সেই আর্দ্র বাতাস স্থলভাগে ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে এই প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে তাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরবে না। সপ্তাহের শেষ দিকে ফের বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। শুক্র এবং শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার উপকূলে হলুদ সতর্কতা

সপ্তাহান্তেও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাটছে না। বরং রবিবার উপকূলের জেলাগুলির জন্য ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ উপকূলঘেঁষা এলাকাগুলিতে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্ষা বিদায়ের স্বাভাবিক সময় পেরিয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির কারণে রাজ্যে এখনও বর্ষার প্রভাব রয়েছে। নতুন নিম্নচাপ সেই বৃষ্টির প্রবণতাকে আরও কয়েক দিন ধরে রাখতে পারে। ফলে শরৎকাল শুরু হলেও দক্ষিণবঙ্গের আকাশ থেকে বর্ষার মেঘ একেবারে সরছে না।

উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির চোখরাঙানি

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও আগামী কয়েক দিনে অস্থিরতা বজায় থাকবে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারেও মঙ্গলবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই কমবেশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এবং ডুয়ার্সের এলাকায় বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে। শনিবার এবং রবিবার বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণও হতে পারে। ফলে পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে গিয়েছে নিম্নচাপ

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগের নিম্নচাপটি বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে গিয়েছে। অন্য দিকে, মৌসুমী অক্ষরেখা দিঘার উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ায় রাজ্যের আবহাওয়ায় ফের পরিবর্তন এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনও বর্ষা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নেয়নি। বরং বঙ্গোপসাগরে একের পর এক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির পর্ব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শরৎ এলেও আকাশে বর্ষার মেঘের আনাগোনা তাই এখনও অব্যাহত।

সমুদ্র উত্তাল, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা

নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশে ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর জেরে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সমুদ্রের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলের মৎস্যজীবীদের আপাতত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাব যত দিন থাকবে, তত দিন সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে।

উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকলে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, নিচু এলাকায় জল জমা কিংবা স্থানীয় ভাবে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

কবে মিলবে স্বস্তি?

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে সপ্তাহের শেষভাগে ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার উপকূলের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকায় সপ্তাহান্তেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না।

অর্থাৎ শরৎকাল শুরু হয়ে গেলেও বাংলার আকাশে আপাতত বর্ষার রেশ কাটছে না। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থানের কারণে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ—দুই অংশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুজোর আগের এই সময়ে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved