Homeদক্ষিণ ২৪ পরগনাবারুইপুরস্ত্রীর চোখের সামনেই কোপ, বারুইপুরে বিজেপি কর্মী খুন

স্ত্রীর চোখের সামনেই কোপ, বারুইপুরে বিজেপি কর্মী খুন

AI চিত্র

নিউজ ডেস্ক; দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বিজেপির সাসপেন্ডেড মণ্ডল সভাপতি সুজন মণ্ডলও রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বাকি তিন ধৃতের নাম কৃষ্ণা মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় দুর্গাপুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিবাদের জেরেই এই নৃশংস হামলা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতে বারুইপুর থানার অন্তর্গত উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারামারিতে গড়ায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক। অভিযোগ, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, হামলার সময় বাপির স্ত্রীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর সামনেই তাঁর স্বামীকে টেনে নিয়ে গিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বাপি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের পরিবারের তরফে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথমে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে উঠে আসে আরও কয়েকজনের নাম। এরপর সুজন মণ্ডল-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার জন্য ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বাপি দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই অভিযোগগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না। খুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীরা ঘটনার আগে এবং পরে বাপির সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন।

ধৃত সুজন মণ্ডলকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি আগে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পদে ছিলেন। তবে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এখন বাপি প্রামাণিক হত্যাকাণ্ডে তাঁর গ্রেপ্তারির পর ঘটনাটি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে, বাপির পরিবারের দাবি, হামলার আগে তাঁর কাছে একাধিক ফোন এসেছিল। ফোন পাওয়ার পর তিনি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বলে পরিবারের বক্তব্য। কিছুটা দূরে যাওয়ার পরই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ফোন কলগুলির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কীভাবে একটি বিবাদ প্রাণঘাতী হামলায় পরিণত হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রমাণ ও হামলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন, এই খুনের পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। পুজো কমিটি নিয়ে স্থানীয় বিরোধই কি হামলার তাৎক্ষণিক কারণ, নাকি তার পিছনে আরও পুরনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ধৃত চারজনের ভূমিকা এবং হামলায় আর কারা উপস্থিত ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বাপি প্রামাণিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি হলেও পুরো ঘটনার রহস্য এখনও কাটেনি। বাপি প্রামাণিককে কেন লক্ষ্য করা হয়েছিল, হামলার আগে কারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং ঘটনাস্থলে আরও কেউ ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে বারুইপুর থানার পুলিশ। তদন্ত যত এগোবে, খুনের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved