Last updated: August 21st, 2026 at 05:58 pm

নিউজ ডেস্ক: মধ্য কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাণিজ্যিক হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বিধি কার্যকরের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির ছবি প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি শহরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তড়িঘড়ি পুরো চত্বরে নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালিয়ে মধ্য কলকাতার একাধিক অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকার মোট ১৭টি হোটেলকে একযোগে কড়া শো-কজ নোটিস পাঠাল রাজ্য দমকল বিভাগ। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট (মির্জা গালিব স্ট্রিট), মার্কুইস স্ট্রিট এবং সাডার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্রে অবস্থিত একাধিক হোটেলের পরিকাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
দমকল ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের এই এলাকাগুলি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় সারাবছরই মুখরিত থাকে। সেখানে একের পর এক বহুতল ও হোটেলে হাজার হাজার মানুষের বসবাস ও নিত্য যাতায়াত। অথচ সেই সমস্ত জনবহুল কাঠামোর বহু জায়গাতেই ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে না বলে প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়েছে। এই চরম গাফিলতি খতিয়ে দেখে মোট ১৭টি হোটেলের কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেরিত শো-কজ নোটিসের আওতায় এককভাবে মার্কুইস স্ট্রিটেরই ১০টি হোটেল রয়েছে। এছাড়া তালিকায় জায়গা পেয়েছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৫টি হোটেল এবং এস এন ব্যানার্জি রোড ও তপসিয়া রোডের ১টি করে হোটেল। প্রতিটি হোটেলের কর্ণধার ও ম্যানেজমেন্টকে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত ফায়ার সেফটি গাইডলাইন বা নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘন করার কারণে কেন তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার পূর্ণাঙ্গ লিখিত জবাব আগামী শনিবারের মধ্যে দমকলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে।
এদিকে কেবল নোটিস পাঠানোর মধ্যেই পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রাখেনি প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে বিশেষ যৌথ অভিযান। দমকল বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শনে নামে। তারা সরাসরি ‘হোটেল আফসা’-য় উপস্থিত হন এবং পুরো চত্বর খতিয়ে দেখেন।
তদন্তকারী দলের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট হোটেলের বৈধ ফায়ার লাইসেন্স, জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Fire Exit), স্বয়ংক্রিয় ধোঁয়া শনাক্তকরণ অ্যালার্ম ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ও সচল অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, জলের রিজার্ভার এবং বিল্ডিং প্ল্যানের সঠিক রূপায়ণ রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত নির্মাণ এবং অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে বাণিজ্যিক কাজকর্ম চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দমকল আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জীবনের সুরক্ষাকে কোনোভাবেই আপসের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। শনিবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পাঠানো নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না মিললে এবং সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো গড়ে না তোলা হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেই সমস্ত হোটেল সিল করে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments