Last updated: September 15th, 2026 at 07:49 pm

নিউজ ডেস্ক ; পুজোর মুখে বাংলার রাজনীতিতে ফের বড়সড় দলবদলের জল্পনা। ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর আগে অথবা পুজোর পরেই একসঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন ওই ১৭ সাংসদ। তবে বসুনিয়ার এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি যেমন বিষয়টি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে, তেমনই কয়েক জন NCPI সাংসদও জানিয়েছেন, এমন কোনও সিদ্ধান্ত তাঁদের জানা নেই।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন। পরে তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানান। সেই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই এবার সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনার কথা সামনে আনলেন বসুনিয়া।
বসুনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন সাংসদ একসঙ্গে বিজেপিতে যাবেন। তাঁর দাবি, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ একসঙ্গে দলবদল করলে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের অযোগ্য ঘোষণার প্রশ্ন উঠবে না। সেই হিসাব করেই দলবদলের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে তিন সাংসদকে নিয়ে আলাদা সমীকরণের কথাও জানিয়েছেন বসুনিয়া। তাঁর দাবি, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন না। তাঁরা বাইরে থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও আবু তাহের খান প্রকাশ্যেই বসুনিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বিজেপি বা এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্য এক NCPI সাংসদ বাপি হালদারও জানিয়েছেন, বসুনিয়া কী বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সাংসদ শতাব্দী রায়ের বক্তব্য, বসুনিয়া নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে কথা বলেছেন; গোটা গোষ্ঠীর তরফে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ১৭ সাংসদের দলবদলের দাবি ঘিরে এখনই চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট নয়।
বসুনিয়ার দাবির পর বিজেপিও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন বলেই তাঁকে দলে নেওয়া হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেই। অর্থাৎ বসুনিয়ার দাবির সঙ্গে বিজেপির আনুষ্ঠানিক অবস্থানের আপাতত ফারাক রয়েছে।
এরই মধ্যে এই ২০ সাংসদের দলবদল নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। তাঁদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে তৃণমূলের তরফে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। লোকসভা সচিবালয়ও সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলবদলের সম্ভাবনার পাশাপাশি বিষয়টির সাংবিধানিক ও আইনি দিকও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ১৭ সাংসদের সম্ভাব্য বিজেপি-যোগের দাবি ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বসুনিয়ার দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক জল্পনা হয়ে থেকে যায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments