Homeমালদাহাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে বেপরোয়া কাণ্ড, সাফাইকর্মীর ধাক্কায় গুরুতর জখম ল্যাবকর্মী

হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে বেপরোয়া কাণ্ড, সাফাইকর্মীর ধাক্কায় গুরুতর জখম ল্যাবকর্মী

নিউজ ডেস্ক ; হাসপাতাল চত্বরেই আচমকা বেপরোয়া গতিতে ছুটতে শুরু করল অ্যাম্বুল্যান্স। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল রোগী, তাঁদের পরিজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে। অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় গুরুতর জখম হলেন একটি
resizeplus_Screenshot 2026-09-15 125717_edited

নিউজ ডেস্ক ; হাসপাতাল চত্বরেই আচমকা বেপরোয়া গতিতে ছুটতে শুরু করল অ্যাম্বুল্যান্স। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল রোগী, তাঁদের পরিজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে। অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় গুরুতর জখম হলেন একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরির কর্মী। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেও প্রায় এক মিনিট ধরে হাসপাতাল চত্বরে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ঘুরতে থাকে গাড়িটি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বেশ কয়েক জন রোগীর আত্মীয়। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের নবনির্মিত বাগানের লোহার ব্যারিকেডে ধাক্কা মেরে অ্যাম্বুল্যান্সটি থামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে মালদহের চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে। ঘটনায় আহত হয়েছেন স্থানীয় একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরির কর্মী মহম্মদ রব্বানি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর পা-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর চোট রয়েছে এবং তিনটি জায়গায় হাড় ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় অ্যাম্বুল্যান্স চালক রূপম দাস হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। রোগী নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই সময় হাসপাতালের এক সাফাইকর্মী সিটুল হরিজন তাঁর কাছে অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি চান বলে অভিযোগ। সিটুল অল্পবিস্তর গাড়ি চালাতে জানেন—এই ধারণা থেকেই ফাঁকা জায়গায় গাড়ি চালিয়ে দেখার জন্য তাঁকে চাবি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অ্যাম্বুল্যান্স চালকের।

কিন্তু গাড়ি চালানো শুরু করার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, সাফাইকর্মী অ্যাম্বুল্যান্সটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা মানুষের মধ্যে তখন হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। কেউ নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ আবার ছোটাছুটি করে গাড়িটির গতিপথ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।

সেই সময় হাসপাতালের কয়েক জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন স্থানীয় একটি বেসরকারি ল্যাবের কর্মী মহম্মদ রব্বানি। নিয়ন্ত্রণহীন অ্যাম্বুল্যান্সটি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়েন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁর একাধিক চোটের কথা জানান।

অ্যাম্বুল্যান্স চালক রূপম দাসের দাবি, সিটুল নিয়মিত হাসপাতালের কাজে আসতেন এবং কর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্রেই গাড়িটি চালানোর আবদার করেছিলেন তিনি। রূপমের বক্তব্য অনুযায়ী, ফাঁকা জায়গায় সামান্য গাড়ি চালিয়ে দেখবেন বলেই চাবি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

রূপমের দাবি, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁরা অ্যাম্বুল্যান্সটির পিছনে দৌড়াতে শুরু করেন। কিছুটা যাওয়ার পর হাসপাতাল চত্বরে একটি লোহার পিলার বা ব্যারিকেডে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তাতেই সেটি থেমে যায় এবং বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনার পর অবশ্য অভিযুক্ত সাফাইকর্মীকে আর হাসপাতালে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তিনি অ্যাম্বুল্যান্সটি ফেলে এলাকা থেকে চলে যান বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রোগীদের আত্মীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই সাফাইকর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ বা পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেন একজন সাফাইকর্মীর হাতে অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি তুলে দেওয়া হল? হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এই ধরনের গাফিলতি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যেখানে প্রতিদিন অসুস্থ রোগী, তাঁদের পরিজন এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াত থাকে, সেখানে একটি ভারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ছুটতে শুরু করলে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সোমবারের ঘটনায় কয়েক জন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

ঘটনার বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পারভেজ আঞ্জুম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানার জন্য ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিক।

এখন তদন্তে মূলত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে—কেন অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি সাফাইকর্মীর হাতে দেওয়া হয়েছিল, তিনি আদৌ গাড়ি চালানোর মতো প্রশিক্ষণ বা অনুমতি রাখতেন কি না, দুর্ঘটনার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল এবং হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার ছবি পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একজন ল্যাবকর্মী গুরুতর জখম হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক প্রশ্ন উঠে গেল। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কড়া নিয়ম চালু করা হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved