Last updated: September 15th, 2026 at 07:52 pm

নিউজ ডেস্ক ; স্কুল পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বা মিড-ডে মিল পরিষেবা নিয়ে আচমকাই বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের চারটি জেলায় স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়ার যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সরকারি এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কেন অনুমোদন প্রত্যাহার করা হল, কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির পড়ুয়াদের উপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েই এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্কুলে মিড-ডে মিল শুধু পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা নয়, শিশুদের পুষ্টি এবং স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের কাছে এই পরিষেবার গুরুত্ব আরও বেশি। ফলে কোনও এলাকায় এই পরিষেবা সংক্রান্ত অনুমোদনে পরিবর্তন এলে তার প্রভাব পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের উপর পড়তে পারে।
জানা যাচ্ছে, চারটি জেলায় সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সংক্রান্ত অনুমোদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
মিড-ডে মিল প্রকল্পের আওতায় স্কুল পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট পুষ্টিমান বজায় রেখে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাপনায় রান্না, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, রান্নাঘরের পরিকাঠামো এবং অর্থ বরাদ্দ একাধিক বিষয় জড়িত। ফলে অনুমোদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রশাসনিক বা পরিকাঠামোগত কোনও বিষয় যুক্ত রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির পড়ুয়াদের খাবারের ব্যবস্থা কী ভাবে চলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনুমোদন প্রত্যাহারের ফলে পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ হবে কি না, নাকি বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা হবে এই বিষয়েও স্পষ্টতার অপেক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকেরা।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, মিড-ডে মিলের মতো সরাসরি পড়ুয়াদের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পে যে কোনও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, এই প্রকল্পের সঙ্গে শুধু স্কুল নয়, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং দৈনন্দিন স্কুলজীবনের বিষয়ও জড়িত।
চার জেলায় অনুমোদন প্রত্যাহারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এখন নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সিদ্ধান্তটি সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের তরফে বিস্তারিত নির্দেশিকা বা ব্যাখ্যা সামনে এলে অনুমোদন প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। আপাতত আচমকা এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষা মহল থেকে অভিভাবক সব মহলেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments