Homeদেশ১১ কিলোমিটার বাইপাসে বদলাবে আদ্রার পণ্য পরিবহণ! ২৭২ কোটির প্রকল্পে বাড়বে রেলের সক্ষমতা

১১ কিলোমিটার বাইপাসে বদলাবে আদ্রার পণ্য পরিবহণ! ২৭২ কোটির প্রকল্পে বাড়বে রেলের সক্ষমতা

নিউজ ডেস্ক : পণ্য পরিবহণে গতি বাড়াতে বড়সড় পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় রেল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা প্রান্ত থেকে জয়চণ্ডীপাহাড়
m_Joychandi_Pahar_1_l_480_640

নিউজ ডেস্ক : পণ্য পরিবহণে গতি বাড়াতে বড়সড় পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় রেল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা প্রান্ত থেকে জয়চণ্ডীপাহাড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন বাইপাস রেললাইন তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ২৭২ কোটি টাকা। রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন লাইনটি চালু হলে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য একটি পৃথক রুট তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলা তৃতীয় লাইনের সঙ্গেও দ্বিমুখী সংযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ফলে আদ্রা–জয়চণ্ডীপাহাড় করিডরে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরুলিয়ার শিল্প ও খনিজভিত্তিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রেল। কারণ এই অঞ্চলের উপর দিয়ে কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট-সহ বিভিন্ন ভারী পণ্য নিয়মিত পরিবহণ করা হয়। আগামী দিনে শিল্পাঞ্চলে পণ্য পরিবহণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই নতুন বাইপাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রেলের হিসাব বলছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮.৮৮ MTPA বা মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান পরিকাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়েই আরও বেশি পরিমাণ পণ্য রেলপথে পরিবহণের সুযোগ তৈরি হবে। শিল্প সংস্থাগুলির জন্যও এর ফলে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় ও পরিবহণ ব্যবস্থাপনা আরও নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

নতুন বাইপাস চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৬.০৬৫টি অতিরিক্ত ফ্রেট রেক চলাচলের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে রেলের তরফে অনুমান করা হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পৃথক রুট ব্যবহারের সুবিধা থাকায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচলের মধ্যে সমন্বয়ও আরও সহজ হবে। ফলে ব্যস্ত করিডরে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে অপারেশনাল চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার যোগও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে SAIL-এর প্রায় ২৩.৪০ MTPA লৌহ আকরিক পরিবহণের প্রয়োজন এবং BCCL-এর দৈনিক প্রায় ৪৫টি ফ্রেট রেকের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে নতুন বাইপাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারী শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি পরিবহণে রেলপথের উপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় এই ধরনের নতুন পরিকাঠামো শিল্পাঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

কমবে ক্রসিংয়ের সমস্যা, বাড়বে ট্রেনের গতি

বর্তমানে আদ্রা–জয়চণ্ডীপাহাড়–সাঁকা এলাকার রেল নেটওয়ার্কে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ক্রসিংয়ের কারণে পণ্যবাহী ট্রেনকে অনেক সময় নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে ট্রেনের সামগ্রিক যাত্রার সময় বেড়ে যায় এবং একই করিডরে আরও বেশি ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়।

নতুন বাইপাস সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য পৃথক পথ তৈরি হলে মূল লাইনে ক্রসিংয়ের কারণে অপেক্ষার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনাও আরও নমনীয় ভাবে করা সম্ভব হবে। ফলে পণ্যবাহী ট্রেন দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে এবং পুরো করিডরের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে।

রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের ব্যবহার প্রায় ৭১ শতাংশ। পণ্য পরিবহণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এই লাইনে চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই জায়গায় বাইপাস লাইন তৈরি হলে মূল রেলপথের উপর চাপ কিছুটা ভাগ করে দেওয়া যাবে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা সামলানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শুধু বর্তমান পণ্য পরিবহণের চাহিদা নয়, ভবিষ্যতের তৃতীয় লাইনের সঙ্গেও এই বাইপাসের সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বাইপাস এবং তৃতীয় লাইনের মধ্যে দ্বিমুখী সংযোগ তৈরি হলে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প পথ পাওয়া যাবে। এর ফলে কোনও একটি লাইনে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগও বাড়তে পারে।

২০২৮-২৯-এর মধ্যে বাড়তে পারে লাইন ক্যাপাসিটি

জয়চণ্ডীপাহাড়–আদ্রা সেকশনের বর্তমান লাইন ক্যাপাসিটি প্রায় ৪৭.৫০ শতাংশ বলে রেলের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরে ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৫৬.৪৫ শতাংশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ পরবর্তী কয়েক বছরে এই করিডরে আরও বেশি ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের শক্তি, খনিজ ও সিমেন্ট পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব যথেষ্ট বেশি। কয়লা ও লৌহ আকরিকের মতো খনিজ সম্পদ থেকে শুরু করে শিল্পের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাঁচামাল ও নির্মাণসামগ্রী—বৃহৎ পরিমাণ পণ্য পরিবহণে এই রুটের ভূমিকা রয়েছে। তাই রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু রেলের পরিচালন ব্যবস্থার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন বাইপাস তৈরি হলে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল আরও মসৃণ হওয়ার পাশাপাশি সময়নিষ্ঠাও বাড়তে পারে। বর্তমানে কোনও একটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা বা ক্রসিংয়ের কারণে যে সময় নষ্ট হয়, তা কমানো গেলে একই সময়ে আরও বেশি রেক পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর ফলে রেলের পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা বাড়বে এবং শিল্প সংস্থাগুলিও তুলনামূলক দ্রুত তাদের পণ্য গন্তব্যে পাঠাতে পারবে।

প্রকল্পটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামো তৈরি করা। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ও পণ্য পরিবহণের পরিমাণ বাড়লে পুরনো রেলপথের উপর চাপ পড়া স্বাভাবিক। সেই চাপ সামলাতে আগেভাগেই নতুন রুট তৈরি করা হলে পরবর্তী সময়ে যানজট বা পরিচালনগত সমস্যার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে ২৭২ কোটি টাকার এই বাইপাস প্রকল্পকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা অঞ্চলের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ, অতিরিক্ত ৮.৮৮ MTPA পণ্য পরিবহণের সম্ভাব্য সক্ষমতা এবং প্রতিদিন অতিরিক্ত ফ্রেট রেক চালানোর সুযোগ—সব মিলিয়ে শিল্প ও খনিজ পরিবহণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আদ্রা–জয়চণ্ডীপাহাড় করিডরে পণ্যবাহী ট্রেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বাড়তি পরিবহণ চাহিদা সামলানোর ক্ষেত্রেও রেলের হাতে আরও শক্তিশালী পরিকাঠামো চলে আসবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved