Homeজেলামায়ের গর্ভেই শিশুর বুকে তরল, অতি বিরল অস্ত্রোপচারে হাওড়ার হাসপাতালে বাঁচল নবজাতক

মায়ের গর্ভেই শিশুর বুকে তরল, অতি বিরল অস্ত্রোপচারে হাওড়ার হাসপাতালে বাঁচল নবজাতক

resizeplus_eisamay_2026-10-05_obe7pn7x_howrah-hospital

নিউজ ডেস্ক: হাওড়া মায়ের গর্ভেই শিশুর বুকে জমেছিল বিপুল পরিমাণ তরল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, জন্মের পর নবজাতকের শ্বাস নেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছিল গভীর আশঙ্কা। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অতি বিরল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণ বাঁচল সদ্যোজাতের। হাওড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের এই সাফল্যে নতুন করে নজর পড়েছে জটিল ভ্রূণ ও নবজাতক চিকিৎসার দিকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পরীক্ষার সময় চিকিৎসকেরা ভ্রূণের বুকে অস্বাভাবিক ভাবে তরল জমে থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের সমস্যাকে ফিটাল প্লুরাল ইফিউশন বলা হয়। তরল জমে যাওয়ার ফলে ফুসফুসের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, হৃদ্‌যন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের স্বাভাবিক কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গর্ভবতী মহিলাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখেন। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুর অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসার পরবর্তী পরিকল্পনা করা হয়। কারণ গর্ভের ভিতরে থাকা শিশুর ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিলতা সামলানো অত্যন্ত কঠিন। সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জন্মের পর শ্বাসকষ্ট-সহ একাধিক গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালের চিকিৎসক দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ পদ্ধতিতে শিশুর বুক থেকে জমে থাকা তরল বের করার ব্যবস্থা করা হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের একাধিক বিভাগের সমন্বয়ে কাজ করতে হয়েছে। গর্ভের ভিতরে থাকা শিশুর কাছে পৌঁছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা এবং একই সঙ্গে মা ও শিশুর নিরাপত্তা বজায় রাখা ছিল চিকিৎসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। জন্মের পরও নবজাতকের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়। ধীরে ধীরে শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল হতে শুরু করে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সন্তোষজনক উন্নতি দেখা যাওয়ার পর স্বস্তি ফেরে পরিবারের মধ্যে।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভস্থ শিশুর বুকে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর শরীরে আরও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাওড়ার এই হাসপাতালে সম্পন্ন হওয়া বিরল চিকিৎসা পদ্ধতিটি শুধু ওই পরিবারের কাছে নয়, চিকিৎসকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও কী ভাবে নবজাতকের প্রাণরক্ষা সম্ভব, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।

বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নবজাতকের সুস্থ হয়ে ওঠার খবর পেয়ে স্বস্তিতে পরিবার। চিকিৎসকদের এই সাফল্যে নতুন করে আশার আলো দেখছেন জটিল গর্ভাবস্থার সমস্যায় থাকা বহু পরিবার।

#human #original

No Comments