Last updated: August 9th, 2026 at 12:27 am

নিউজ ডেস্ক: বর্ষার ভরা মরশুম চললেও বাজারে যেন সোনার হরিণ রূপোলি শস্য ইলিশ! গত ২ জুলাই থেকে টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। ফলে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে উপকূলের মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মৎস্য ব্যবসায়ীদের। টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে একই রকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বহাল রয়েছে। মাঝে দু’-এক দিন আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও সমুদ্র একইভাবে উত্তাল থাকায় বাধ্য হয়ে বহু ট্রলারকে ফাঁকা হাতেই উপকূলে ফিরে আসতে হয়েছে।
ঝড়ো আবহাওয়া ও সমুদ্রের প্রবল তাণ্ডবের কারণে গত ২০ দিনের মধ্যে অন্তত পাঁচটি মাছ ধরার ট্রলার মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে গিয়েছে। যার মধ্যে কাকদ্বীপের দুটি, রায়দিঘির একটি, ফ্রেজারগঞ্জের একটি এবং দিঘার একটি ট্রলার রয়েছে। এই মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনায় ইতিমধ্যে ১০ জন মৎস্যজীবীর সলিল সমাধি ঘটেছে এবং এখনও পর্যন্ত ৫ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন। এই প্রাণহানি ও অব্যাহত দুর্যোগের কারণে নতুন করে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমানোর সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের মৎস্যজীবী কৃষ্ণ দাস আক্ষেপের সুর মিলিয়ে বলেন, “সমুদ্রের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে জাল ফেলা অসম্ভব। জাল ফেললেও ইলিশের দেখা মিলছে না। খুব কম পরিমাণে নিহারি, ভোলা বা চেলা মাছ উঠছে।” অন্যদিকে কাকদ্বীপের দুই মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র ও বিজন মাইতি জানান, প্রথম দফায় কিছুটা ইলিশ মিললেও জুলাইয়ের শুরু থেকে দুর্যোগের কারণে কাজ স্তব্ধ। এর ফলে ট্রলারের জ্বালানি ও কর্মীদের খরচ তুলতে গিয়ে দেনায় ডুবছেন ট্রলার মালিকরা।
ডায়মন্ড হারবারের ব্যবসায়ীদের কথায়, ইলিশের মরশুম আর মাত্র এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হবে। সেপ্টেম্বরের পর ইলিশের জোগান কমতে থাকে এবং চাহিদাও ভাটা পড়ে। বছরের যে সময়টাতে ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, ঠিক সেই সময়েই জোগান না থাকায় মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন মৎস্য বিক্রেতারাও।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments