Homeউত্তর ২৪ পরগনাবসিরহাটবরফ কলের পাইপে বিপত্তি! বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ ২০,পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের

বরফ কলের পাইপে বিপত্তি! বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ ২০,পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের

নিউজ ডেস্ক; বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ার ধর্মতলা মোড়ের কাছে সাপপুকুর এলাকায় বরফ কলের পাইপ ফেটে বিষাক্ত গ্যাস লিকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে
বরফ কলের পাইপ ফেটে বিষাক্ত গ্যাস লিক, অসুস্থ অন্তত ২০, পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের

নিউজ ডেস্ক; বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ার ধর্মতলা মোড়ের কাছে সাপপুকুর এলাকায় বরফ কলের পাইপ ফেটে বিষাক্ত গ্যাস লিকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। গ্যাসের প্রভাবে অন্তত ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পথ অবরোধে নামেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সাপপুকুর এলাকায় একটি বরফ কলের পাইপ ফেটে আচমকা গ্যাস বেরিয়ে আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের এলাকায় গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গ্যাসের প্রভাবে বেশ কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা এবং অসুস্থ বোধ করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপরই এলাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। অসুস্থদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বরফ কল থেকে গ্যাস লিকের কারণ খুঁজে বের করার দাবি ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ বরফ কলটির আশপাশে জনবসতি রয়েছে এবং গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় মানুষের উপর পড়তে পারে।

ঘটনার প্রতিবাদেই পরে ধর্মতলা মোড়ের কাছে পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, গ্যাস লিকের ঘটনায় প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বরফ কলের পাইপলাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

অসুস্থ অন্তত ২০ জনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। গ্যাসটি ঠিক কী ধরনের, তার ঘনত্ব কতটা এবং কতক্ষণ ধরে তা এলাকায় ছড়িয়েছে—এসব বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাসের প্রকৃতি জানা না পর্যন্ত তার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক পরিস্থিতি চিকিৎসকরাই পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, আচমকা গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যায় থাকা মানুষদের নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বরফ কলের মতো শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তাই পাইপলাইন বা যন্ত্রাংশে কোনও ত্রুটি দেখা দিলে তার দ্রুত মেরামতি অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, পাইপটি আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার আগে কোনও সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নয়, আশপাশের বাসিন্দাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনও গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। তাই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে বলে দাবি উঠেছে।

এদিকে পথ অবরোধের জেরে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তার উপর স্থানীয়দের জমায়েতের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের বক্তব্য, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁরা পথে নেমেছেন। তাঁদের মূল দাবি, অসুস্থদের যথাযথ চিকিৎসা এবং গ্যাস লিকের ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা।

ঘটনার পর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। গ্যাস লিকের উৎস বন্ধ করা হয়েছে কি না, বরফ কলের ভিতরে আর কোনও ঝুঁকি রয়েছে কি না এবং আশপাশের এলাকায় গ্যাসের প্রভাব এখনও রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি, ঘটনাটির পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। পাইপের নিয়মিত পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক মতো হয়েছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করা হচ্ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সাপপুকুরে এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠুক, সেটাই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি যাতে আর তৈরি না হয়, তার জন্য বরফ কলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দাবি জোরালো হয়েছে।

বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ার ধর্মতলা মোড়ের কাছে এই গ্যাস লিকের ঘটনা তাই শুধু একটি শিল্প দুর্ঘটনা নয়, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তে গ্যাস লিকের প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে এবং বরফ কল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন