Homeজেলাপ্ল্যাকার্ড হাতে পাহাড় বাঁচাতে আর্তি খুদেদের

প্ল্যাকার্ড হাতে পাহাড় বাঁচাতে আর্তি খুদেদের

images (27)

নিউজ ডেস্ক: পাহাড় বাঁচানোর লড়াইয়ে এ বার সামিল খুদেরাও। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে পোস্টার। কারও গলায় স্লোগান—‘পাহাড় বাঁচাও, প্রকৃতি বাঁচাও’। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর-১ ব্লকের বেড়ো এলাকায় চণ্ডী পাহাড় রক্ষার দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনে ছোট থেকে বড়—সকলের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। রবিবার সকাল থেকেই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে দেখা যায় স্কুলপড়ুয়া এবং কিশোর-কিশোরীদেরও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডী পাহাড়ের একটি অংশে পাথর উত্তোলনের কাজ চলছে। পাহাড় কাটা এবং পাথর তোলার জেরে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পাহাড় শুধু পাথরের স্তূপ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার পরিবেশ, জলাধার, গাছপালা এবং মানুষের জীবনযাত্রা।

এই পরিস্থিতিতেই তৈরি হয়েছে ‘চণ্ডী পাহাড় বাঁচাও কমিটি’। সংগঠনের উদ্যোগে পাহাড়ের নীচে শুরু হয় অবস্থান-বিক্ষোভ। হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। খুদেদের হাতের প্ল্যাকার্ডেও উঠে আসে পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষার বার্তা। তাঁদের সরল বক্তব্য—আজ পাহাড় ধ্বংস হলে আগামী দিনে তার খেসারত দিতে হবে তাঁদেরই প্রজন্মকে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সঙ্গীতা বাউরী জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই চণ্ডী পাহাড়ের সঙ্গে তাঁদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। পাহাড়ে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছে এই জায়গাটি প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই পাহাড়ের অনেকটা অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে সেই কাজ বন্ধ না হলে পাহাড়ের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, পাথর কাটার সময় শব্দ এবং ধুলোর জেরে আশপাশের এলাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত গাছপালা ও ছোট প্রাণীদের আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শুধু পাহাড় নয়, গোটা এলাকার পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

অন্য দিকে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, ২০১৬ সাল থেকেই অনুমোদন নিয়ে নিয়ম মেনেই গ্রানাইট উত্তোলনের কাজ চলছে। পাহাড় কেটে কাজ করা হচ্ছে না, বরং পাহাড়ের নীচের অংশ থেকে অনুমোদিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে বলে সংস্থার বক্তব্য।

তবে সংস্থার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, যে পদ্ধতিতেই পাথর তোলা হোক না কেন, পাহাড় ও পরিবেশের উপর তার প্রভাব পড়ছে। তাই কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সন্ধ্যায় পাহাড় রক্ষার বার্তা নিয়ে মোমবাতি মিছিলও করেন স্থানীয়রা।

খুদেদের হাতে ধরা ছোট ছোট প্ল্যাকার্ড যেন বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—উন্নয়নের নামে প্রকৃতির কতটা ক্ষতি মেনে নেওয়া যায়? উত্তর খুঁজছে রঘুনাথপুর।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved