Homeজেলাগোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দলের কার্যালয় ভাঙলেন বিজেপি কর্মীরাই, আক্রান্ত জেলা কমিটির নেতা

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দলের কার্যালয় ভাঙলেন বিজেপি কর্মীরাই, আক্রান্ত জেলা কমিটির নেতা

resizeplus_images (26)

নিউজ ডেস্ক: দলের অন্দরের কোন্দলকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত কোচবিহারের শীতলকুচি। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘাতের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দলেরই কর্মীদের একাংশের হামলায় বিজেপির এক নেতা আক্রান্ত হয়েছেন। ভাঙচুর চালানো হয়েছে দলের কার্যালয়েও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরের কোন্দল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। তারই মধ্যে দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, বিজেপিরই একাংশ কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান। যদিও কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

এই ঘটনার পাশাপাশি বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তথা জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য পবিত্র বর্মন আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা এবং তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছিল। ঘটনাটি নিয়ে তিনি দলেরই এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে অভিযুক্ত নেতা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয় মিছিল এবং খাওয়াদাওয়ার অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে পবিত্র বর্মনের গাড়ি আটকে হামলার অভিযোগ ওঠে। গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রাস্তার উপর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাঁর পথ আটকানোর অভিযোগ রয়েছে। এরপর গাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থেকে নেমে তিনি একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানা গিয়েছে।

পবিত্র বর্মনের দাবি, সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগের তির বিজেপির বর্তমান মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীর দিকে। যদিও পবিত্র অধিকারী এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই এবং রাজনৈতিক ভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও শীতলকুচি বিধানসভার বিজেপি কনভেনার কনক চন্দ্র বর্মণ গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কী ঘটেছে তা প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শীতলকুচি থানার পুলিশ। কারা হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।

দলের কার্যালয় ভাঙচুর এবং দলীয় নেতার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় শীতলকুচিতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে না। আপাতত পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

No Comments

আরও পড়ুন

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved