Homeদেশনিউ হারাঙ্গাজাওয়ে রেললাইন বসে যাওয়ার সমস্যা, ৩ নম্বর লাইনেই সীমিত ট্রেন! ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২ নম্বর লাইন চালুর আশা

নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে রেললাইন বসে যাওয়ার সমস্যা, ৩ নম্বর লাইনেই সীমিত ট্রেন! ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২ নম্বর লাইন চালুর আশা

নিউজ ডেস্ক : উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের গুরুত্বপূর্ণ নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে রেলপথের পরিকাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। গত ২০ জুলাই থেকে
resizeplus_998b5bddc860a774bd85e03fbaa5cb37_1410701763_H@@IGHT_0_W@@IDTH_600

নিউজ ডেস্ক : উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের গুরুত্বপূর্ণ নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে রেলপথের পরিকাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। গত ২০ জুলাই থেকে ওই এলাকায় রেলওয়ে ফরমেশন ক্রমাগত বসে যাওয়া এবং এক দিকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর জেরে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে ট্রেন চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ৩ নম্বর লাইন দিয়েই ট্রেন চালানো হচ্ছে।

রেল সূত্রে খবর, পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে এবং ট্রেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে জন্য অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত রেললাইন পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন প্রায় ৫০০ কর্মী।

কেন বসে যাচ্ছে রেলপথ?

রেলওয়ের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডের সমস্যার পিছনে অন্যতম কারণ প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের গতিপথে পরিবর্তন। পাশাপাশি স্থানীয় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন ঘটেছে। তার ফলে উপরদিকের পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জল দ্রুত গতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট পথে নেমে আসছে। সেই জল রেলপথের আশপাশের মাটির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু ভূপৃষ্ঠের জল নয়, মাটির নীচেও জল জমে থাকার সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ স্তরে অতিরিক্ত জল সঞ্চিত হওয়ায় রেলওয়ে ফরমেশনের মাটির স্থায়িত্ব কমেছে। এর ফলেই রেললাইনের নীচের কাঠামো বসে যাওয়া এবং এক দিকে সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। রেলপথের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাত্রীবাহী ও অন্যান্য ট্রেনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলিতে ট্রেন চালানো বন্ধ বা সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলছে ব্যাপক পুনরুদ্ধার অভিযান

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে একাধিক স্তরে কাজ শুরু করেছে। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে ফের একই ধরনের সমস্যা না তৈরি হয়, সেই বিষয়টিও মাথায় রেখে কাজ এগোচ্ছে।

পুনরুদ্ধার অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা। কোথা দিয়ে পাহাড়ি জল নেমে আসছে, কোথায় জল জমছে এবং কী ভাবে সেই জল দ্রুত নিরাপদ পথে সরিয়ে দেওয়া যায়—এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফরমেশনকে ফের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ২২টি পিসি এক্সকাভেটর, ১২টি জেসিবি এবং ১৮টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সরানো, জমে থাকা জল ও মাটির সমস্যা মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নিউম্যাটিক ড্রিল এবং হাইড্রোলিক পাইলিং রিগের মতো বিশেষ সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রায় ৫০০ কর্মীকে নিয়ে একাধিক দল গঠন করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনও দল ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে ফরমেশন শক্তিশালী করছে, কোনও দল জল নিষ্কাশনের কাজ দেখছে, আবার অন্য দল রেললাইনের পরিকাঠামো পরীক্ষা ও স্থিতিশীল করার কাজে যুক্ত রয়েছে।

৩ নম্বর লাইনেই আপাতত ট্রেন চলাচল

যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমানে ৩ নম্বর লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। ওই লাইনে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, কোনও অবস্থাতেই তাড়াহুড়ো করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন চালু না করা। প্রথমে পরিকাঠামোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে, তার পরেই ধাপে ধাপে অন্য লাইনগুলিতে ট্রেন চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলওয়ের আশা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ২ নম্বর লাইন পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ২ নম্বর লাইন চালু হলে নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা কিছুটা বাড়বে এবং বর্তমানে তৈরি হওয়া পরিচালনাগত চাপ কমানো সম্ভব হবে।

তবে এখানেই শেষ নয়। রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই ১ নম্বর লাইনও পুনরায় চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, ধাপে ধাপে ইয়ার্ডের স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।

যাত্রী নিরাপত্তাই এখন মূল লক্ষ্য

নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টির জল, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ জলের চাপ রেল পরিকাঠামোর উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণে শুধু রেললাইন সারিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়। লাইনের নীচের মাটি, ফরমেশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আশপাশের ভূপ্রকৃতির স্থায়িত্বও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার প্রয়োজন থাকলেও যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় শক্তিবৃদ্ধি, জল নিষ্কাশন এবং পরিকাঠামোগত স্থিতিশীলতার কাজ শেষ হওয়ার পরেই পরবর্তী লাইনগুলি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই মুহূর্তে তাই নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল চালু থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২ নম্বর লাইন চালু হলে ট্রেন চলাচলের চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১ নম্বর লাইনও পরিষেবায় ফিরলে এই গুরুত্বপূর্ণ রেল সেকশনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved