Last updated: September 8th, 2026 at 01:30 pm

শফিকুল ইসলাম, নদিয়া: রাতের নিস্তব্ধতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের ওপর দিয়ে কোটি কোটি টাকার সোনা পাচারের এক আন্তর্জাতিক ছক ভেস্তে দিল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)। নদিয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত চৌকি এলাকায় অতন্দ্র প্রহরীদের চোখে ধুলো দিয়ে ভারতে বিপুল পরিমাণ সোনার বিস্কুট পাচারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্ষিপ্রতা ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পাচারকারীদের সেই নীল নকশা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেল। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের ৮৯টি খাঁটি সোনার বিস্কুট। ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক বাংলাদেশি নাগরিককে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএসএফ সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন জওয়ানেরা। ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের ওপারে, অর্থাৎ বাংলাদেশের দিক থেকে কিছু ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন কর্তব্যরত জওয়ানরা। বিষয়টি নজরে আসতেই তাঁরা দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক অবস্থান নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে বিশেষ কায়দায় কাপড়ে শক্ত করে বাঁধা একটি ভারী পুঁটলি ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করছে দুষ্কৃতীরা। ভারতীয় ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে থাকা সহযোগীর হাতে চালান করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে পাচারকারীরা নিজেদের কাজে সফল হওয়ার আগেই বিএসএফ জওয়ানেরা গর্জে ওঠেন এবং সতর্কবার্তা দিয়ে ঘিরে ফেলেন এলাকা।
জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাংলাদেশের দিক থেকে অন্যরা পালানোর চেষ্টা করলেও ধাওয়া করে এক বাংলাদেশি পাচারকারীকে পাকড়াও করেন সীমান্তরক্ষীরা। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হয় কাপড়ে মোড়ানো সেই ভারী পুঁটলিটি। পরে ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় জওয়ানদের। পুঁটলির ভেতর থেকে সারিবদ্ধভাবে সাজানো অবস্থায় বের হয়ে আসে মোট ৮৯টি চকচকে সোনার বিস্কুট।
বিএসএফ আধিকারিকদের দেওয়া আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৮৯টি সোনার বিস্কুটের মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ১১,২৮১.৭৭০ গ্রাম (১১ কেজিরও বেশি)। বর্তমান বাজারে এই বিপুল পরিমাণ সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ২১ হাজার ৩০২ টাকা। সাম্প্রতিক অতীতে নদিয়া সীমান্তে একক কোনও অভিযানে এত বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলেই দাবি আধিকারিকদের। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত এবং সরকারি নিয়ম মেনে বাজেয়াপ্ত সোনা নির্দিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে বিএসএফ কর্তাদের অনুমান, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও পাচার প্রচেষ্টা নয়। বরং এর শিকড় রয়েছে দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সংগঠিত আন্তঃসীমান্ত সোনা পাচার চক্রের মধ্যে। বাংলাদেশ থেকে সোনা এনে এ দেশে কাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, এই পাচারের মূল কারবারি কারা এবং ভারতীয় সীমান্তের ভেতরের কোনও দালাল বা রিসিভার এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা জানতে ধৃত বাংলাদেশি দুষ্কৃতীকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। ধৃতের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি গোটা চক্রটিকে চিহ্নিত করতে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে বিএসএফ ও গোয়েন্দা শাখা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments