Last updated: September 24th, 2026 at 01:57 pm

নিউজ ডেস্ক; তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সুপ্রিম কোর্টে। বুধবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি, লোকসভার স্পিকার দফতরে চলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কেও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে অভিযোগ তুলে পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। গত অগস্টে শীর্ষ আদালত মামলাটি শুনতে রাজি হয় এবং ২০ সাংসদকে নোটিস পাঠানো হয়। তবে লোকসভার স্পিকারের দফতরকে আলাদা করে নোটিস দেওয়া হয়নি।
এর পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ২০ সাংসদকে তাঁদের অবস্থান জানাতে নোটিস দেন। তাঁদের জবাব দেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সাংসদদের পক্ষ থেকে আরও চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে জবাব প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন।
বুধবারের শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না। অন্য দিকে, আদালত জানতে চায়, বর্তমানে প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কত দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী শুনানিতে জানান, দলত্যাগের আবেদন জমা পড়ার পর ইতিমধ্যেই তিন মাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। আদালত আশা করছে, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে। চার সপ্তাহ পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
তবে এই মামলায় দু’পক্ষের অবস্থান আলাদা। তৃণমূলের বক্তব্য, সাংসদরা দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেওয়ায় দলত্যাগবিরোধী আইন প্রযোজ্য হতে পারে। অন্য দিকে, NCPI-তে যাওয়া সাংসদদের দাবি, তাঁদের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বৈধ সংযুক্তি বা মার্জারের আওতায় পড়ে এবং সেই কারণে তাঁদের পদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না।
এখন চার সপ্তাহ পরের শুনানির দিকে নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের। সেই সময় লোকসভার স্পিকার দফতরের প্রক্রিয়া কতদূর এগোয় এবং ২০ সাংসদকে ঘিরে দলত্যাগবিরোধী আইনের প্রশ্নে কী অবস্থান সামনে আসে, সেটাই দেখার।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments