Homeরাজ্যডেঙ্গি দমনে নভেম্বরেও অভিযান, নজরে ৫ জেলা

ডেঙ্গি দমনে নভেম্বরেও অভিযান, নজরে ৫ জেলা

নিউজ ডেস্ক; বর্ষা শেষের পথে। কিন্তু ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে এখনই ঢিল দিতে চাইছে না প্রশাসন। মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নভেম্বর মাসেও জারি থাকবে বিশেষ অভিযান। রাজ্যের পাঁচটি জেলাকে বিশেষ
resizeplus_Screenshot 2026-09-15 130601_edited

নিউজ ডেস্ক; বর্ষা শেষের পথে। কিন্তু ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে এখনই ঢিল দিতে চাইছে না প্রশাসন। মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নভেম্বর মাসেও জারি থাকবে বিশেষ অভিযান। রাজ্যের পাঁচটি জেলাকে বিশেষ ভাবে নজরে রেখে চলবে ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ। কোথায় মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে, কোথায় জমছে জল, কোথায় এখনও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে—সেই সমস্ত বিষয়েই বাড়তি নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সাধারণত বর্ষার সময় ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়লেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অক্টোবর-নভেম্বরেও মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে পুজোর মরসুম পেরিয়ে গেলেই অভিযান বন্ধ করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নজরে থাকা পাঁচ জেলায় পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। বাড়ির ছাদ, পরিত্যক্ত জায়গা, নির্মীয়মাণ ভবন, নর্দমা, জমে থাকা জল এবং বিভিন্ন জলাধারে মশার লার্ভা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভানাশক প্রয়োগ এবং মশা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

শুধু সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে যাতে কোথাও জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হবে। ফুলের টব, ভাঙা পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা যে কোনও পাত্রে জমে থাকা অল্প জলও ডেঙ্গির বাহক এডিস মশার প্রজননের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত ভাবে জল ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মশার উৎসস্থল ধ্বংস করা। শুধু রোগী চিহ্নিত করে চিকিৎসা করলেই সংক্রমণের চক্র পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব নয়। কোথা থেকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই মূল লক্ষ্য।

নভেম্বর পর্যন্ত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তে তাই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার পরিস্থিতির উপর। কোথাও সংক্রমণ বাড়ছে কি না, নতুন করে ডেঙ্গি রোগী চিহ্নিত হচ্ছে কি না এবং মশার লার্ভার উপস্থিতি কতটা—নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।

প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনও পর্যায়েই আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। বর্ষা বিদায় নিলেও অভিযান চলবে, যাতে শীত পড়ার আগেই মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে এনে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমানো যায়।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved