
নিউজ ডেস্ক; পরিবেশ দূষণ রোধ এবং শহরগুলিকে জঞ্জালমুক্ত করার লক্ষ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও জোর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ এবং পুরোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জমি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের ১৬টি পুরসভা এলাকায় ‘ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট’ বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিনের জঞ্জাল নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের মতে, রাজ্যের সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাহিদা মেটাতে এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। সেই কারণে আরও ৬৭টি প্লান্টের নির্মাণকাজ চলছে। লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ওই কেন্দ্রগুলির কাজ সম্পূর্ণ করে সেগুলি চালু করা।
এর পাশাপাশি আরও ৩২টি নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, বর্তমানে নির্মীয়মাণ এবং প্রস্তাবিত কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৯৯টি প্লান্টের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই কেন্দ্রগুলি চালু হলে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির জঞ্জাল অপসারণের সমস্যা অনেকটাই কমবে।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দিনের পর দিন বর্জ্য জমিয়ে পাহাড় তৈরি করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তাঁর কথায়, বর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই ভাবনার পিছনে রয়েছে বর্জ্যকে শুধুমাত্র ফেলে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা। পুরসভাগুলিতে সংগৃহীত জঞ্জালের একটি অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব। ফলে এক দিকে যেমন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উপর চাপ কমবে, তেমনই অন্য দিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুরসভাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং প্রক্রিয়াকরণ—এই তিনটি ধাপ সঠিক ভাবে পরিচালিত না হলে নতুন প্লান্টের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। তাই পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গোটা প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করার প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন প্লান্ট তৈরির পাশাপাশি পুরোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলিতে জমে থাকা ‘লিগ্যাসি ওয়েস্ট’ বা দীর্ঘদিনের সঞ্চিত বর্জ্য অপসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই বর্জ্য সরিয়ে জমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমে থাকা বর্জ্য পরিবেশের উপর চাপ তৈরি করে। সেই বর্জ্য অপসারণ করে জমি পুনরুদ্ধার করা গেলে পুরসভাগুলির সামনে নতুন করে জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো বর্জ্যের কারণে তৈরি হওয়া পরিবেশগত সমস্যাও কমানোর চেষ্টা করা যাবে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, নতুন বর্জ্য জমা হওয়ার হার কমানোর পাশাপাশি পুরোনো বর্জ্যের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান করা। সেই কারণেই এক দিকে নতুন প্রসেসিং প্লান্ট তৈরি, অন্য দিকে লিগ্যাসি ওয়েস্ট অপসারণ—দুই দিকেই একসঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাজ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগামী কয়েক বছরকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে পুর দপ্তর। নির্মীয়মাণ ৬৭টি প্লান্টের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং আরও ৩২টি কেন্দ্রের নির্মাণ শুরু করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
তবে শুধু প্লান্ট তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত কর্মী, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং বর্জ্য সংগ্রহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পুর দপ্তরের পরিকল্পনা সফল হলে শহরগুলিতে জঞ্জাল ব্যবস্থাপনার চেহারা বদলাতে পারে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্যের পাহাড় তৈরি না করে প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারের দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পুরসভাগুলির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments