Last updated: August 9th, 2026 at 12:53 am

নিউজ ডেস্ক: নজিরবিহীন পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের! রাজ্যের নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি— পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান কিংবা কাউন্সিলররা আর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) ইস্যু করতে পারবেন না। সীমাহীন দুর্নীতি এবং জাল শংসাপত্র চক্রের রমরমা রুখতে বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে পঞ্চায়েত এবং ২০০০ সাল থেকে পুরসভাগুলির মাধ্যমে জারি হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র এবার পুনর্যাচাই (Re-verification) করা হবে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের সিপিকে পাশে নিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান, আধার কার্ড, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব, স্কুলে ভর্তি এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে জন্ম শংসাপত্রই মূল ভিত্তি। সম্প্রতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা এসআইবি (SIB)-র রিপোর্টে বিপুল পরিমাণ ভুয়ো শংসাপত্রের তথ্য সামনে এসেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ডিজিটাইজ হওয়া ১১ লক্ষ ২৪ হাজার শংসাপত্রের মধ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজারটিই জাল বলে ধরা পড়েছে। এছাড়া বিলম্বিত (Delayed) ৪৬,৯৯৮টি শংসাপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১১,৩৯০টিই ভুয়া। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যেখানে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৪৫৩টি জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যথাক্রমে ৩ লক্ষ ৮১ হাজার এবং ১০ লক্ষ ৫০ হাজারে পৌঁছে যায়। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রাজ্য সরকারের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতির মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার থেকেই গ্রাম, পুরসভার বরো অফিস এবং শ্মশানগুলিতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল। নবান্ন সূত্রের খবর, জনপ্রতিনিধিদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা ফের সরকারি আধিকারিকদের হাতে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আপাতত জেলাশাসকরা স্থির করবেন কোন আধিকারিক কোন অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন।
ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে। ভুয়ো তথ্য বা বেআইনি উপায়ে শংসাপত্র নিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলে তা তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভুয়ো শংসাপত্র বানিয়ে বসবাসকারী ‘অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের’ চিহ্নিত করতে এই সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ফরেন আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিসে (FRRO), যাতে প্রয়োজনে তাদের নিজ দেশে ফেরত (Deport) পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments