Homeহাওড়াবেলুড়ছাত্রীদের আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ, বেলুড়ের স্কুলে শিক্ষককে শোকজ

ছাত্রীদের আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ, বেলুড়ের স্কুলে শিক্ষককে শোকজ

নিউজ ডেস্ক; ছাত্রীদের মোবাইলে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠল হাওড়ার বেলুড়ের একটি স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্কুল চত্বরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। একাধিক ছাত্রীর কাছ থেকে
resizeplus_sssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssssss

নিউজ ডেস্ক; ছাত্রীদের মোবাইলে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠল হাওড়ার বেলুড়ের একটি স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্কুল চত্বরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। একাধিক ছাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের ঘরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। এরপরই তাঁকে শোকজ় করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরও। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত রিপোর্ট এবং ছাত্রীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাওড়া জেলা স্কুল শিক্ষা পরিদর্শক বিমলকুমার গায়েন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত সোমবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। একাধিক ছাত্রী স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষক তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইলে এমন কিছু বার্তা পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর ও আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ভিতরে আলোচনা শুরু হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে পাঠায়।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্র এবং ছাত্রীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেন। অভিযোগকারী ছাত্রীদের কয়েক জনের দাবি, এর আগেও ওই শিক্ষক রাতের দিকে তাঁদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ পাঠাতেন। বার্তাগুলির ধরন নিয়েও আপত্তি ছিল তাঁদের। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ বা আপত্তি পৌঁছেছিল বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে অতীতেও ওই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। কিন্তু সতর্ক করার পরেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলেই এ বারের অভিযোগে উঠে এসেছে। ফলে স্কুলের অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং শিক্ষক-ছাত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সাম্প্রতিক সূত্রটি শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি বা জ্ঞাতসারে নয়, আলাদা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ভাবে অনুষ্ঠানে কী ধরনের পোশাক পরে আসবেন, সেই সংক্রান্ত নানা মন্তব্য ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা লেখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এই ধরনের বার্তা নিয়ে কয়েক জন ছাত্রী আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগের পর বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চেম্বারে ডেকে পাঠানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষককে অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। যদিও এই বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এবং অভিযোগের সমস্ত দিক এখন তদন্তের আওতায়।

এর পরেই স্কুলের তরফে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ় করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত রিপোর্ট চেয়ে বা সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলা শিক্ষা দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

হাওড়া জেলা স্কুল শিক্ষা পরিদর্শক বিমলকুমার গায়েন জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত রিপোর্ট তাঁদের হাতে পৌঁছেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই দপ্তরের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ এবং স্কুলের নিজস্ব রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযোগের ধরন, মেসেজের বিষয়বস্তু, কখন এবং কী ভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল, এর আগে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছিল কি না—সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে ওই শিক্ষককে সতর্ক করেছিল কি না, সতর্ক করার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।

ঘটনাটি সামনে আসার পরে স্কুলের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগের ধরন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে পড়ুয়াদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ছাত্রীদের মানসিক স্বস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তদন্ত চলাকালীন অভিযোগকারী ছাত্রীদের পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের যাতে কোনও ধরনের চাপ বা অস্বস্তির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

এখন নজর জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তদন্তের দিকে। অভিযোগগুলি কতটা সত্য, আগের সতর্কতার পরেও কেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হল এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে না। আপাতত স্কুলের তরফে শোকজ় করা হয়েছে এবং জেলা শিক্ষা দপ্তরও বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে খতিয়ে দেখছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved