Homeকলকাতাছবি পোড়ানোর অভিযোগে কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই পুলিশের অভিযান

ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই পুলিশের অভিযান

resizeplus_Screenshot 2026-09-11 133553_edited

নিউজ ডেস্ক; বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই বড় পদক্ষেপ পুলিশের। বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ করার অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল ভবানীপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার ভোরে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কংগ্রেসের তরফে এই গ্রেফতারিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চলতি মাসের গোড়াতেই পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাবার খাওয়ার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খাবার খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলে মন্তব্য করেন ধীরেন্দ্র। তাঁর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। রাজনৈতিক দল থেকে সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়।

ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বক্তব্য নিয়ে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেই আপত্তি ওঠেনি, বিজেপির কয়েক জন নেতাও প্রকাশ্যে তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে সহমত না হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। সেই বিতর্কের মধ্যেই কলকাতায় ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বক্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস।

ভবানীপুর থানার সামনে আয়োজিত সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস। পুলিশের অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের ছবি পোড়ানো হয়। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়ানোর ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের উদ্দেশে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। তাঁর বক্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুর থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখেছেন তিনি। এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ কমিশনারকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পদক্ষেপ করার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই অতনু দাসের টালিগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছন ভবানীপুর থানার পুলিশকর্মীরা। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় আরও কয়েক জনের নাম সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছবি পোড়ানোর ক্ষেত্রে কারা প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অতনু দাসের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা করার জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। সেই কর্মসূচির জেরে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেফতার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

অতনুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস কোনও অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবে না। প্রতিবাদের অধিকার থেকে দল পিছিয়ে যাবে না বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ফলে একদিকে পুলিশের গ্রেফতারি অভিযান, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিবাদ—এই দুইয়ের জেরে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে। এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের প্রতিবাদে ছবি পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে কি না, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এখন পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালতে এই গ্রেফতারির পরবর্তী আইনি গতিপথ কী হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কংগ্রেসের তরফে পরবর্তী সময়ে কোনও বড় কর্মসূচি নেওয়া হয় কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved