Homeপূর্ব বর্ধমানকী ভাবে মিলল সার্ভিস কোটা? অভীককে জেরা

কী ভাবে মিলল সার্ভিস কোটা? অভীককে জেরা

নিউজ ডেস্ক: ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে বিতর্কের জেরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক অভীক দে-কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা
ChatGPT Image Aug 21, 2026, 02_24_57 PM

নিউজ ডেস্ক: ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে বিতর্কের জেরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক অভীক দে-কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল স্বাস্থ্য ভবনের তদন্তকারী কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন সদস্যের তদন্তকারী দল তাঁর কর্মজীবন, কোভিড-পর্বে পরিষেবা এবং সেই পরিষেবার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তরে ভর্তির যোগ্যতা-সহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে জানা গিয়েছে। সন্ধ্যার পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে হাসপাতাল চত্বর থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস জানিয়েছেন, পার্থপ্রতিম প্রধানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি মঙ্গলবার অভীককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কমিটিতে রয়েছেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক মিত্র এবং বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোমনাথ দাস।

কেন এই জিজ্ঞাসাবাদ?

অভীকের স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে মূল বিতর্ক ‘সার্ভিস কোটা’ ঘিরে। তদন্তকারীরা মূলত জানতে চাইছেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে তাঁর কর্মরত থাকার তথ্য, কোভিড অতিমারির সময়ে তাঁর পরিষেবা এবং সেই পরিষেবার ভিত্তিতে সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মকানুন ঠিক ভাবে মানা হয়েছিল কি না।

সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন নথি এবং কোভিড-পর্বে দায়িত্ব পালনের তথ্য খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তিনি পূরণ করেছিলেন কি না, সেই সংক্রান্ত নথিও পরীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ, শুধু তাঁর বক্তব্য নেওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে তাঁর দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজও হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই তদন্তে ঠিক কী ফল মিলেছে, তা এখনও স্বাস্থ্য ভবনের তরফে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে অভীকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনো যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য ভবনে হাজিরা এড়ানোর পর বর্ধমানে

জানা গিয়েছে, অভীককে সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে হাজির হননি। এরপর পুলিশি ব্যবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তদন্তকারী কমিটির সদস্যেরা সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতাল থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভীককে জিজ্ঞাসাবাদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বর্ধমান থানার পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন হাসপাতালের ভিতরেও নজরদারি ছিল কড়া।

পুরনো বিতর্কই ফের সামনে

অভীকের সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে একটি তদন্ত কমিটি তাঁর ওই ভর্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেই সময় বিষয়টি বড় আকারে সামনে আসেনি বলে অভিযোগ।

পরবর্তী সময়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো নথি ও ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে অভীকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি সার্ভিস কোটা ব্যবহার করে তিনি কী ভাবে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবারের জিজ্ঞাসাবাদকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা শুধু ভর্তি প্রক্রিয়াই নয়, সেই ভর্তির ক্ষেত্রে অভীকের পরিষেবার যোগ্যতা কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর।

বর্ধমান থেকে এসএসকেএম, তার পর নিলম্বন

অভীক বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়ো ডায়াগোনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষার্থী হন।

তবে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে নিলম্বিত করা হয়। এখনও তিনি নিলম্বিত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে তাঁর ভর্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের তদন্ত সেই সময়ের কর্মজীবন ও কোভিড পরিষেবার সঙ্গেও জড়িত। ফলে তদন্তকারী কমিটি কোন সময় তিনি কোথায় কর্মরত ছিলেন, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সেই পরিষেবার ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কোটার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছে বলে খবর।

ছাত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন

অভীকের জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়। কলেজের এমবিবিএসের শেষ বর্ষের ছাত্র বিভাংশু দে বলেন, কোভিড কোটায় অভীককে দেওয়া পরিষেবা ও তার ভিত্তিতে পাওয়া সুবিধা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন ছিল। রাজ্য সরকার নতুন করে তদন্ত শুরু করায় তাঁরা খুশি বলেও জানান তিনি।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সার্ভিস কোটায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অভীক নির্ধারিত সমস্ত শর্ত পূরণ করেছিলেন কি না, তাঁর কোভিড পরিষেবার নথি যথাযথ কি না এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়মবহির্ভূত বিষয় ছিল কি না—তদন্তের রিপোর্টেই তার উত্তর মিলবে।

তিনটি বিষয়েই নজর তদন্তকারীদের

এই মুহূর্তে তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মূলত তিনটি বিষয়। প্রথমত, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে অভীকের কর্মজীবন ও দায়িত্ব পালনের নথি। দ্বিতীয়ত, কোভিড অতিমারির সময়ে তাঁর পরিষেবার প্রকৃতি ও মেয়াদ। তৃতীয়ত, সেই পরিষেবার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তরে সার্ভিস কোটায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আদৌ যোগ্য ছিলেন কি না।

মঙ্গলবারের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে এই বিষয়গুলিই সামনে রেখে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারী কমিটি প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও যাচাই করার পর তাদের রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে জমা দিতে পারে।

এখন সেই রিপোর্টের দিকেই নজর রয়েছে। কারণ, রিপোর্টে কী উঠে আসে তার উপরই নির্ভর করবে অভীকের সার্ভিস কোটায় ভর্তি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ। আপাতত তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

এক নজরে

তদন্তের অবস্থান: অভিযোগ ও নথিপত্র যাচাই চলছে; চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি

ঘটনা: সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে তদন্ত

কেন্দ্রে: চিকিৎসক অভীক দে

স্থান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ

জিজ্ঞাসাবাদ: প্রায় পাঁচ ঘণ্টা

তদন্তকারী দল: তিন সদস্যের কমিটি

মূল বিষয়: কর্মজীবন, কোভিড পরিষেবা ও সার্ভিস কোটায় ভর্তির যোগ্যতা

নিরাপত্তা: পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

পূর্ববর্তী পদক্ষেপ: মে মাসে পৃথক অনুসন্ধানের নির্দেশ

অভীকের বর্তমান অবস্থা: নিলম্বিত

ছবি-এ আই

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved