Last updated: October 12th, 2026 at 01:48 pm

নিউজ ডেস্ক: ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন এলাকার মানুষ। তাই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন না হলে জনপ্রতিনিধিকে প্রশ্ন করার অধিকারও তাঁদের রয়েছে। রবিবার বীরভূমের চিনপাই গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজেকে এলাকার মানুষের ঘরের ছেলে বলে উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নের কাজে খামতি দেখলে তাঁকে সতর্ক করতে পারবেন বাসিন্দারা। এমনকি, প্রয়োজন হলে ‘কানমোলা’ দেওয়ার অধিকারও তাঁদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোট মিটে গেলে অনেক জনপ্রতিনিধিকে এলাকায় আর দেখা যায় না বলে অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে জগন্নাথের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চিনপাইয়ের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এলাকার মানুষ তাঁকে আশীর্বাদ করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাই তিনি যতটা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাস্তবে সেই কাজ হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্বও বাসিন্দাদের রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হলে মানুষ তাঁকে সতর্ক করতে পারেন। তাঁদের পরামর্শ মেনে নিজেকে সংশোধন করার কথাও বলেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জগন্নাথ বলেন, তাঁরা জনসেবক। মানুষের সমর্থনেই বিধায়ক বা মন্ত্রী হওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই কারণে জনপ্রতিনিধিদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ দিনের বক্তব্যে সিজেপির আন্দোলন প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিদেশি শক্তি দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি কী তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরেছেন, তা প্রদত্ত বক্তব্যে স্পষ্ট নয়।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশংসা শোনা যায় জগন্নাথের মুখে। তাঁকে একশোর মধ্যে একশো নম্বর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর নাম পুনরায় তোলার জন্য আবেদন জমা পড়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
জগন্নাথের দাবি, নাম বাদ যাওয়ার পর আবেদন কম জমা পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের নাগরিকত্বের বিষয়ে আপত্তি মেনে নিয়েছেন। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা আবেদন না করার ঘটনাকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি কিংবা অস্বীকৃতি হিসেবে সরাসরি ব্যাখ্যা করা যায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ম ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জগন্নাথের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক দিকে উন্নয়ন নিয়ে মানুষের জবাবদিহি চাওয়ার অধিকারকে স্বীকার করেছেন তিনি, অন্য দিকে নির্বাচন ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments