
নিউজ ডেস্ক:-সুরাটে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে বাড়িতে খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল পাঁচ বছরের এক শিশুর। মৃতের নাম আর্য কালসারিয়া। একই পরিবারের আরও চার সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহজনক খাদ্যে বিষক্রিয়ার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট শীতল রেস্তোরাঁটি সিল করে দিয়েছে সুরাট পুরসভা। ([Free Press Journal][1])
ঘটনাটি সুরাটের বরাছা এলাকার। ১৫ অগস্ট সন্ধ্যায় কালসারিয়া পরিবার ওই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে বাড়ি নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পরিবারের পাঁচ সদস্য—আর্য, তাঁর বাবা অশোক, মা জ্যোৎস্না এবং দুই দিদি—সেই খাবার খান। পরিবারের দাবি, খাবারের মধ্যে কাজু ও পনিরের তরকারিও ছিল। ([The Times of India][2])
পরের দিন ভোরে প্রথমে আর্য ও তাঁর বাবার অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পেটের ব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগতে শুরু করেন। ১৭ অগস্ট তাঁদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পাঁচ জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় আর্যের। ([The Times of India][2])
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসার সময় সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আর্যের শরীরে ঠিক কোন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষা রয়েছে। ([The Times of India][2])
পুলিশ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে পাওয়া নমুনা এবং তাঁদের খাওয়া খাবারও পরীক্ষা করছে। ফলে খাবার থেকেই বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, এবং সেই বিষক্রিয়ার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ([The Times of India][2])
ঘটনার পর সুরাট পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে পরিদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, সেখানে কিছু খাবার নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়। চানা ডাল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, কিছু সবজি খারাপ অবস্থায় ছিল এবং খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পনিরও ঢাকা ছাড়া অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক সেজল ব্যাস। ওই খাবারগুলি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। ([The Times of India][3])
এর পরেই রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে রেস্তোরাঁর খাবারই শিশুটির মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তদন্তকারী সংস্থা। ([The Times of India][3])
ঘটনার পর গুজরাটের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফুল পাঁসুরিয়া আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে রেস্তোরাঁগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত পরীক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ([Free Press Journal][1])
সুরাট পুরসভাও শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিশেষ পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রশাসনের নজরে এখন খাবার সংরক্ষণ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলি।
একই পরিবারের পাঁচ জনের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া এবং একজনের মৃত্যু হওয়ায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে কোন খাবার থেকে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং আর্যের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা নিশ্চিত করতে ফরেন্সিক রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসন ও পুলিশ সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও খাবার বা রেস্তোরাঁকে শিশুটির মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী বলে চূড়ান্ত দাবি করা হচ্ছে না। ([The Times of India][2])
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments