Last updated: October 12th, 2026 at 01:18 pm

নিউজ ডেস্ক: পুজোর কেনাকাটা কোন দোকান থেকে হবে, তা নিয়েও এ বার বিতর্কে জড়াল শিলিগুড়ি। ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না, বিরিয়ানি খান, তবে হিন্দু দোকান থেকে’— এমনই বার্তা লেখা পোস্টার ঘিরে শহরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নামে লাগানো এই পোস্টারকে কেন্দ্র করে রবিবার দিনভর চর্চা চলেছে বিভিন্ন মহলে। সন্ধ্যার দিকে অবশ্য পোস্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিছুটা সুর নরম করেন মঞ্চের সদস্যেরা।
দুর্গাপুজোকে ‘দুর্গোৎসব’ না ‘শারদোৎসব’ বলা হবে, কিংবা উৎসবের সময়ে আমিষ খাবার খাওয়া উচিত কি না— এই ধরনের বিতর্কে গত কয়েক দিন ধরেই সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। তার মধ্যেই পুজোর কেনাকাটা নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এল উত্তরবঙ্গের এই শহরে। এ বার প্রশ্ন উঠেছে, উৎসবের বাজারে ক্রেতারা কোন দোকান থেকে জিনিস কিনবেন, তা নিয়েও কি নির্দেশ দেওয়া হবে?
রবিবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব মোড়, ভারতনগর, এনজেপি এবং প্রধাননগর-সহ একাধিক এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নামে বিভিন্ন পোস্টার দেখা যায়। কোথাও লেখা, ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান, কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।’ অন্য পোস্টারে পুজোর সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকে কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবার কোথাও ফেরিওয়ালাদের পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
পোস্টারগুলির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। উৎসবের বাজারে ধর্মের ভিত্তিতে দোকান বেছে নেওয়ার আহ্বানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বার্তা সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার পোস্টারের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও দেখা যায় মঞ্চের সদস্যদের তরফে।
তবে সন্ধ্যার দিকে তাঁদের বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে বলে জানা গিয়েছে। পোস্টার ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার নিন্দা করেছেন ডান ও বাম— দুই শিবিরের নেতারাই। ফলে শিলিগুড়িতে পুজোর কেনাকাটা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
পুজোর মরসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য, খাবারদাবার এবং কেনাকাটা নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিলিগুড়ির এই পোস্টার বিতর্ক সেই প্রশ্নকেই ফের সামনে এনে দিয়েছে। তবে পোস্টারগুলির বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments