
নিউজ ডেস্ক: ক্যাবচালককে নিশানা করা, নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে খুন, তার পর গাড়ি ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে মদের আসর—ডানকুনি ও কলকাতার এন্টালিতে পরপর দুই ক্যাবচালক খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে এমনই এক ছকের কথা। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তদের বয়ান থেকে দুই ঘটনার মধ্যে বেশ কিছু মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, টাকা ও দামি সামগ্রী লুটের পাশাপাশি নেশা এবং ফূর্তির খরচ জোগাড় করাও এই অপরাধের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ক্যাবচালককে নিশানা করা হত। তার পর কোনও অজুহাতে তাঁকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হত বলে অভিযোগ। সেখানে চালকের মোবাইল, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হত। বাধা দিলে চালককে খুন করার অভিযোগও উঠেছে। এর পর মৃতদেহ এক জায়গায় ফেলে রেখে গাড়িটি নিয়ে অন্যত্র চলে যেত অভিযুক্তেরা। লুটের টাকা হাতে আসার পর চলত মদ্যপান ও ফূর্তি। পরে গাড়ি ফেলে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গত ৭ অক্টোবর ডানকুনিতে ক্যাবচালক রামজি কইরিকে খুনের ঘটনা ঘটে। তাঁর দেহ হুগলির ডানকুনির ভাদুয়া এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এর পর অভিযুক্তেরা গাড়িটি নিয়ে কলকাতার দিকে চলে আসে। নিমতলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন ভূতনাথ মন্দিরের কাছে তারা মদের আসর বসায় বলে তদন্ত সূত্রে দাবি। পরে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর মল্লিকবাজার ও পার্ক স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি নামী রেস্তরাঁর সামনে অ্যাপ-ক্যাবটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এর পর ৯ অক্টোবর কলকাতার এন্টালি এলাকায় ক্যাবচালক ভগবান প্রসাদকে খুনের ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনাতেও আগের ঘটনার সঙ্গে পদ্ধতিগত মিল রয়েছে বলে তদন্তকারীদের একাংশের দাবি। অভিযোগ, চালককে খুনের পর তাঁর কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। পরে শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযুক্তেরা ফূর্তি করে এবং ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরে যায় বলে সূত্রের খবর।
পরপর দুই ক্যাবচালক খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অ্যাপ-ক্যাব চালকদের রাতের ডিউটি, যাত্রী যাচাই এবং নির্জন এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং খুনের পিছনে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।
তবে পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও অভিযুক্তদের বয়ান আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। দুই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, লুটের সামগ্রী কোথায় গেল এবং খুনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments