Homeজেলানন্দীগ্রামে টোটোয় চেপে ভোট দিতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, বেরিয়ে বললেন, ‘আমৃত্যু নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকায় নাম রাখব’

নন্দীগ্রামে টোটোয় চেপে ভোট দিতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, বেরিয়ে বললেন, ‘আমৃত্যু নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকায় নাম রাখব’

eisamay_2026-10-06_5hggo2qj_suvendu-adhikari

নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে টোটোয় চেপে ভোট দিতে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ নম্বর বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জানান, আমৃত্যু নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকায় নিজের নাম রাখতে চান।

এ দিন সকাল থেকেই নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। এই বুথেই ভোট দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী টোটোয় চেপে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ২০০ মিটার পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি। ওই পথ হেঁটে পেরিয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার থাকা সম্ভব নয়। তবে নন্দনায়কবাড়ের প্রতি তাঁর আলাদা টান রয়েছে। তাই ভবিষ্যতেও এই এলাকার ভোটার তালিকায় নিজের নাম রাখার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর আগেও একাধিকবার ভোট দিয়েছেন শুভেন্দু। তবে সেই সময় তিনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ওই বুথে ভোট দিলেন তিনি। এবারও তাঁর যাতায়াতের ক্ষেত্রে বদল দেখা যায়নি। আগের মতোই টোটোয় চেপে বুথে যান এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরের নির্দিষ্ট অংশ হেঁটে পার হন।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে এ দিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে ছিল বাড়তি নজর। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে মঙ্গলবার উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে মোট ৩২৩টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

ভোট দিয়ে বেরিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটের পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নন্দীগ্রামে বিপুল ভোট পড়বে বলে তাঁর আশা। তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচনী বিধি মেনে এ দিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

এ দিন রেজিনগরে এক বিধায়কের গ্রেফতারির প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী বিধি সকলকেই মেনে চলতে হবে। ভোট চলাকালীন আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলার উপরই জোর দেন তিনি।

সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটদানের দিন মুখ্যমন্ত্রীর টোটোয় চেপে বুথে যাওয়া এবং নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকায় আমৃত্যু নাম রাখার বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাই ফের সামনে এসেছে এ দিনের ভোটপর্বে।

No Comments