Homeকলকাতাপুজোর আগে টাকা পাচ্ছে না, হাই কোর্টে মমতাপন্থী তৃণমূল

পুজোর আগে টাকা পাচ্ছে না, হাই কোর্টে মমতাপন্থী তৃণমূল

eisamay_2026-09-18_rjrrzws7_mamata-banerjee-4

নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে দলীয় তহবিল ব্যবহার নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। ফ্রিজ হয়ে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মসূচি এবং কর্মীদের বেতন-সহ প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতাপন্থী শিবির।

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই মামলা বেশ কিছু দিন ধরেই কলকাতা হাই কোর্টে চলছে। অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষিতে দলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই তিন অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত জুলাইয়ে কলকাতা হাই কোর্টের তরফে মমতাপন্থী তৃণমূলকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সরাসরি দলের হাতে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। আদালত-নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের নজরদারিতে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, আইনি খরচ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

পরে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের জেরে মামলাটি আরও জটিল হয়। রাজ্যের তরফে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়, যে নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দলের নামে দায়ের হওয়া মামলাটি কী ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। তবে হাই কোর্ট জানায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়। ফলে আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশ আপাতত বহাল থাকবে।

২১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালত ফ্রিজ হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়ে আগের নির্দেশই বহাল রাখে। অর্থাৎ আদালতের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থেকে মমতাপন্থী তৃণমূল প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে পারবে। তবে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আদালত-নিযুক্ত আধিকারিকের নজরদারি থাকবে এবং ইচ্ছেমতো লেনদেনের সুযোগ নেই।

দলের তরফে মূল উদ্বেগ, উৎসবের মরশুমে সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানো এবং কর্মীদের বেতন-সহ নিয়মিত খরচ মেটানো। পুজোর আগে এই আর্থিক জটিলতা দ্রুত মিটিয়ে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ পাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই আদালতে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্য দিকে, তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত ও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের পেছনে অভিযোগের বিষয়টিও এখনও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থের মালিকানা, ব্যবহারের অধিকার এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনার প্রশ্নে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন পুজোর আগে দলীয় তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। উৎসবের মরশুমে মমতাপন্থী তৃণমূলের আর্থিক কর্মকাণ্ড কতটা স্বাভাবিক হয়, তা নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশ এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার উপর।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved