Homeকলকাতাভাঙা পায়ের রিপোর্ট বাইরে এল কী করে? SSKM-কে ইমেল মারফত নোটিস মমতার

ভাঙা পায়ের রিপোর্ট বাইরে এল কী করে? SSKM-কে ইমেল মারফত নোটিস মমতার

resizeplus_images (29)

নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট সংক্রান্ত চিকিৎসা-নথি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই রিপোর্ট কী ভাবে বাইরে এল, কার অনুমতিতে তা প্রকাশ করা হল এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিস পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। সোমবার ইমেল মারফত হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের কাছে দু’পাতার আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নোটিসটি এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা চিকিৎসক মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি চিকিৎসক পীযূষকুমার রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক অতনু বিশ্বাসের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইনজীবীর মূল প্রশ্ন, মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি যদি হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অন্য কোনও ব্যক্তির হাতে গিয়ে থাকে, তা হলে সেই তথ্য হস্তান্তরের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

ঘটনার সূত্রপাত নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের একটি পুরনো রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন তিনি। রিপোর্টে বাঁ হাঁটুর সিটি স্ক্যানের প্রসঙ্গে হাড় ভাঙা বা সরে যাওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ রয়েছে।

এর পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর বিতর্ক। মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কী ভাবে প্রকাশ্যে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁর শিবিরের নেতারাও। চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য সাধারণ ভাবে রোগীর গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণেই নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুমতি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে মমতার আইনজীবীর বক্তব্য।

২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আহত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেই সময় এসএসকেএমের মেডিক্যাল বুলেটিনে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোটের কথা জানানো হয়েছিল।

বর্তমান বিতর্কে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টটি মূলত বাঁ হাঁটুর সিটি স্ক্যান সংক্রান্ত। রিপোর্টে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের প্রমাণ না থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্য দিকে, মমতার চিকিৎসার সময়কার নথি ও চিকিৎসকদের বক্তব্য নিয়ে পৃথক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ফলে পুরনো ঘটনার চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এখন নজর এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের জবাবের দিকে। মমতার আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে চিকিৎসা-নথি প্রকাশের অনুমতি, নথি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ভাবে ব্যক্তিগত চিকিৎসা তথ্য প্রকাশ রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved