Homeকলকাতা‘বাম বধ’ বনাম ‘হিটলারের ইতিহাস’, পজোর আগে হোর্ডিং যুদ্ধে সরগরম কামারডাঙা

‘বাম বধ’ বনাম ‘হিটলারের ইতিহাস’, পজোর আগে হোর্ডিং যুদ্ধে সরগরম কামারডাঙা

Screenshot 2026-10-04 175301

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ কলকাতার রাস্তায়। পূর্ব কলকাতার কামারডাঙা এলাকায় ‘বাম বধ’ লেখা হোর্ডিংকে ঘিরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। তারই পাল্টা হিসেবে এবার হিটলারের ছবি ও ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নতুন হোর্ডিং দেখা গেল। ফলে পুজোর আবহে জমে উঠেছে রাজনৈতিক হোর্ডিং-যুদ্ধ।

কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির তরফে লাগানো হোর্ডিংয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল, পুজো এলাকায় সিপিআইএম, ডিওয়াইএফআই, এসইউসিআই-সহ বামপন্থী সংগঠনগুলির কোনও স্টল বসতে দেওয়া হবে না। সেই হোর্ডিংয়েই ব্যবহার করা হয় ‘এবার পুজোয়—বাম বধ’ স্লোগান। পুজো কমিটির বক্তব্য, তাদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে বাম শিবিরে শুরু হয় পাল্টা প্রতিক্রিয়া। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কাছে নতুন একটি হোর্ডিংয়ে হিটলারের প্রতীকী ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে—‘বাম বধ’-এর মতো ভাবনা আগেও উঠেছিল, তার পরিণতি ইতিহাসে লেখা রয়েছে। যদিও নতুন হোর্ডিংয়ে কোনও সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর সময়ে বইয়ের স্টল দেওয়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরম্পরা। নির্দিষ্ট জায়গায় অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনেই স্টল করা হবে বলেও তাদের দাবি। ফলে কোনও পুজো কমিটির আপত্তিতে সেই কর্মসূচি বন্ধ করার প্রশ্ন নেই।

অন্যদিকে, কামারডাঙা পুজো কমিটির তরফে বামপন্থী সংগঠনগুলির স্টল না দেওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ধর্ম ও মতাদর্শগত বিরোধিতাকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পুজোর মুখে একদিকে মণ্ডপসজ্জার প্রস্তুতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তাবাহী হোর্ডিং—দুইয়ের মিশেলে কামারডাঙা ও আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে আলাদা রাজনৈতিক আবহ। উৎসবের আগে এই হোর্ডিং-তরজা আগামী দিনে আরও কতটা চড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved