Homeদেশস্মিতের হামলাকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে, ২ বছর আগেই নিজের দেশে নিষিদ্ধ, তার পরে কী হয়েছিল?

স্মিতের হামলাকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে, ২ বছর আগেই নিজের দেশে নিষিদ্ধ, তার পরে কী হয়েছিল?

eisamay_2026-10-03_5pau9121_Flydubai-incident

নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলার ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে এল অভিযুক্ত সহ-পাইলটের পরিচয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলাকারীর নাম হামাম আলহামামি। তিনি ওমানের নাগরিক। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, স্মিতের উপর হামলার প্রায় দু’বছর আগে, ২০২৪ সালে ওমানেই তাঁর উড়ান সংক্রান্ত কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তাঁর কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি হওয়াই এর কারণ বলে সূত্রগুলির দাবি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, হামামি ওমান এয়ারে পাইলট প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তাঁর অনলাইন কার্যকলাপ নিয়ে নজরদারির পর কিছু উদ্বেগ তৈরি হয় বলে তদন্ত-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। এরপর তাঁকে উড়ান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি ওমান এয়ার ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যান। সেখানেই পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

এই জায়গাতেই উঠছে বড় প্রশ্ন—ওমানে তাঁর বিরুদ্ধে যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেই তথ্য কি ফ্লাইদুবাইয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় সামনে এসেছিল? কী ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হয়েছিল? আর যদি আগের তথ্য জানা থেকেও থাকে, তা হলে তাঁকে কী ভাবে যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক বিমানে সহ-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল? তদন্তকারীরা এখন এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, ককপিটের ভিতরেই হামামি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলা করেন। সংঘর্ষের মধ্যে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

হামাম আলহামামির অতীত নিয়েও তদন্ত চলছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি কিছু সময় সিরিয়ায় ছিলেন এবং সেখানেই কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আল-কায়দার মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এই দাবিগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

অর্থাৎ, স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলার তদন্ত এখন শুধু বিমানের ককপিটে কী ঘটেছিল, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হামামির অতীত, ওমানে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে কী ভাবে তিনি ফের পাইলটের দায়িত্ব পেলেন—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হলেই আরও স্পষ্ট হবে।

No Comments