Homeঅন্যান্যজন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার ফিরছে ডিপ্লোমাধারীদের

জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার ফিরছে ডিপ্লোমাধারীদের

eisamay_2026-10-03_r6h4v1e1_19-1

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারী আয়ুষ চিকিৎসকদের পুরনো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর। ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ বিভিন্ন ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের এই অধিকার সাম্প্রতিক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তার প্রতিবাদে স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দেওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগের ব্যবস্থা পুনর্বহালের আশ্বাস মিলেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যা। বিশেষ করে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়িতে জন্ম কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পেতে অনেক সময় দূরের সরকারি দফতরের উপর নির্ভর করতে হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, স্থানীয় ভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিষেবা দিয়ে আসা ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়তে পারে।

সাম্প্রতিক গেজেট ও পরবর্তী আদেশনামায় ডিএমএস বা ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি, ডিএইচএমএস বা ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি-সহ বিভিন্ন আয়ুষ ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, তা হঠাৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দাবি, রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার ডিএমএস ও ডিএইচএমএস ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ডিএমএস চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৮৪ সালে ডিএমএস ও ডিএইচএমএস-কে দ্বিতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার পর ডিএইচএমএস চিকিৎসকরাও এই অধিকার পান বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নানা প্রশাসনিক ও আইনি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই ব্যবস্থা বদলেছে।

সম্প্রতি অধিকার পুনর্বহালের দাবিতে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের তরফে স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের বক্তব্য জানান। তাঁদের মূল দাবি ছিল, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা করে আগের ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনা হোক। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্য দিকে, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবস্থায় বর্তমানে স্বচ্ছতা ও নথির সত্যতা যাচাই নিয়েও প্রশাসনের নজর রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক পর্যায়ে পুরনো জন্ম শংসাপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডিজিটাইজড এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অফলাইনে জারি হওয়া জন্ম শংসাপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ফলে ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের অধিকার পুনর্বহালের পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ম, দায়িত্ব ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী নির্দেশেই স্পষ্ট হবে, কোন শর্তে এবং কী ভাবে আগের ব্যবস্থা ফের কার্যকর করা হবে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved