Last updated: October 2nd, 2026 at 07:52 pm

নিউজ ডেস্ক: স্বপ্ন ছিল নিজের একটা মোটরবাইক থাকবে। কিন্তু হাতে বড় অঙ্কের টাকা ছিল না। তাই একদিনে নয়, বছরের পর বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে শুরু করেছিলেন তারাপীঠের যুবক শ্রীনাথ লেট। তবে তাঁর সঞ্চয়ের ধরনটাই ছিল একেবারে অন্যরকম। নোট নয়, ৫ ও ১০ টাকার কয়েন জমিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি করেছিলেন নিজের স্বপ্নের তহবিল।
বৃহস্পতিবার সেই সঞ্চয়ের বস্তা নিয়েই মল্লারপুরের একটি মোটরবাইকের শোরুমে হাজির হন শ্রীনাথ। সঙ্গে ছিল টোটোয় করে আনা কয়েনে ভর্তি বস্তা। বস্তা খুলতেই রীতিমতো চমকে যান শোরুমের কর্মীরা। মেঝের উপর ঢালা হয় একের পর এক কয়েন। শুরু হয় গোনার কাজ।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীনাথের জমানো কয়েনের মূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে আরও ৬০ হাজার টাকা নগদ যোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে নিজের পছন্দের মোটরবাইকটি কিনে নেন তারাপীঠের এই যুবক।
কয়েন গুনতে শোরুমের একাধিক কর্মীকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় দিতে হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে এমন বিপুল পরিমাণ খুচরো টাকা নিয়ে এসে বাইক কেনার বিষয়টি দেখে অবাক হয়ে যান কর্মীরা। পরে অবশ্য শ্রীনাথের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের কথা শুনে তাঁরা কয়েন গুনে টাকা গ্রহণ করতে রাজি হন।
তারাপীঠের মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি পুজোর ডালির দোকানে কাজ করেন শ্রীনাথ। সীমিত রোজগারের মধ্যেই প্রতিদিন অল্প অল্প করে ৫ ও ১০ টাকার কয়েন আলাদা করে রাখতেন তিনি। সেই ছোট ছোট সঞ্চয়ই সময়ের সঙ্গে বড় অঙ্কে পরিণত হয়।
শ্রীনাথ জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই মোটরবাইক কেনার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় কয়েন জমিয়েই সেই স্বপ্ন পূরণের পথ বেছে নেন।
অবশেষে শোরুমের মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কয়েন গোনা শেষ হয়। হিসাব মেলার পর সম্পূর্ণ হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ। তারপরই শ্রীনাথের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর বহুদিনের স্বপ্নের বাইকের চাবি।
অল্প অল্প করে জমানো খুচরো টাকায় বড় স্বপ্ন পূরণের এই ঘটনা এখন তারাপীঠে চর্চার বিষয়। শ্রীনাথের গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়—সঞ্চয়ের অঙ্ক ছোট হলেও, লক্ষ্যটা বড় হলে একদিন সেই সঞ্চয়ই স্বপ্নপূরণের রাস্তা তৈরি করতে পারে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments