Homeজেলামুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই চলল ‘লুট’! দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য মেনে গুপ্তিপাড়ায় ভাণ্ডার লুট উৎসব

মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই চলল ‘লুট’! দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য মেনে গুপ্তিপাড়ায় ভাণ্ডার লুট উৎসব

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বিরাট পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে চলল ব্যাপক ‘লুট’! তবে কোনো দুষ্কৃতী হামলা নয়, এই
IMG-20260809-WA0000

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বিরাট পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে চলল ব্যাপক ‘লুট’! তবে কোনো দুষ্কৃতী হামলা নয়, এই লুট ছিল ভক্তির, এই লুট দু’শো বছরের পুরনো এক অমলিন ঐতিহ্যের। হুগলির ঐতিহাসিক গুপ্তিপাড়ায় জগৎপতি শ্রীজগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুণ্ডিচা বাটিতে পরম আনন্দে পালিত হলো বিখ্যাত ‘ভাণ্ডার লুট’ উৎসব। দেবী লক্ষ্মীর পরোক্ষ নির্দেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অন্ধকার নামতেই হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও উৎসবের নির্দিষ্ট ‘লুটেরা’ দল হামলা চালিয়ে জগন্নাথদেবের জন্য নিবেদিত ৬৫ পদের সমস্ত ভোগপাত্র লুট করে নিয়ে যান। আর এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থেকে নিজেই ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Table of Contents

    ‎হুগলির এই শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি উৎসবের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গুপ্তিপাড়ায় মাসির বাড়িতে এসে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত এবং স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়িকা সুমনা সরকার। উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ মন্দিরের সাধুসন্ত থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের অগণিত পুণ্যার্থী। বৃষ্টি ও কড়া নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করেই গুণ্ডিচা বাড়ির প্রাঙ্গণে জমেছিল ভক্তদের বিশাল ভিড়।

    উৎসবের রীতি অনুযায়ী, এদিন দুপুরের পর থেকেই রান্না হতে থাকে জগন্নাথদেবের পছন্দের রাজকীয় ভোগ। খিচুড়ি, পোলাও, নানা পদের সবজি, পনির, বাহারি মিষ্টি থেকে উপাদেয় পায়েস— মোট ৬৫টি ব্যঞ্জনে সাজানো হয়েছিল হাজার হাজার মাটির পাত্র। সন্ধ্যা নামতেই নিয়মানুযায়ী রান্নাঘরের দরজা একপ্রকার ‘ভেঙে’ ভেতরে ঢুকে পড়েন নির্দিষ্ট লুটেরার দল। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাণ্ডার ফাঁকা হয়ে যায়। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ পুণ্যার্থী— সকলেই পরম ভক্তিতে এই ‘লুট’-এর মহাপ্রসাদ কাড়াকাড়ি করে গ্রহণ করেন।

    ভাণ্ডার লুট পর্ব মিটতেই আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে উল্টো রথের প্রস্তুতি। মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে আজ সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথ। মাসির বাড়ি থেকে শ্রীপাটে ফেরার এইযাত্রায় সুস্বাদু ভোগের পর্ব শেষ হলেও, পরবর্তীতে লক্ষ্মীদেবীর মান ভাঙানোর ঐতিহ্যের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তকূল।

    No Comments

    তাজা খবর