
নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১০ বিধায়কের পদ খারিজের দাবিকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েন এবার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার শীর্ষ আদালত জানাল, বিধানসভার অধ্যক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটাই আশা করছে আদালত। তবে স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
মামলাটি মূলত তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে বিধানসভা-কেন্দ্রিক সংঘাতকে ঘিরে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন বিধায়ক। গত ৮ জুলাই শোভনদেব বিধানসভার স্পিকারের কাছে তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন করেছিলেন।
এই আবেদনের পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয় ১০ বিধায়ককে নোটিস পাঠায়। তাঁদের প্রত্যেককে কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করা হবে না, সে বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। সাত দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিস পাওয়া ১০ বিধায়কের মধ্যে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ।
শোভনদেবের অভিযোগ, ওই বিধায়কেরা দলের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই আবেদনের ভিত্তিতেই বিধানসভায় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। তাঁদের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিধানসভা ও আদালতে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ফলে পদ খারিজের বিষয়টি এখন শুধু দলীয় বিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই ১০ বিধায়কের পদ খারিজের আবেদনের সঙ্গে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে বিতর্কেরও যোগ রয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূলের একাংশ বিরোধী দলনেতা পদের জন্য মনোনীত করলেও বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা হয়েছে।
কলকাতা হাই কোর্টে ওই মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আইনি লড়াই এখনও আলাদা ভাবে চলছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ১০ বিধায়কের পদ খারিজ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়টি ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিধানসভার অধ্যক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটা আশা করা যায়। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুলাই স্পিকারের কাছে আবেদন করার পর ৮ অক্টোবর তিন মাস পূর্ণ হবে। সেই সময়সীমার প্রসঙ্গও শুনানিতে উঠে আসে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্ট স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেয়নি। আদালতের বক্তব্যকে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এখন নজর বিধানসভার স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে আনা অভিযোগের জবাব এবং বিধানসভায় চলা প্রক্রিয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে চলা মামলাটিও এই রাজনৈতিক-আইনি সংঘাতের একটি পৃথক অংশ।
ফলে একই ঘটনায় এখন একাধিক স্তরে আইনি প্রক্রিয়া চলছে—বিধানসভা, কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট। ১০ বিধায়কের পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসবে। আপাতত শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের পর বিধানসভার স্পিকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments