
নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরি নেই। হাতে সময় কম, তাই পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্যান্ডেল তৈরি, প্রতিমা তৈরি—সব ক্ষেত্রেই এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। তার মধ্যেই গত কয়েকদিনের বৃষ্টি কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছিল সাধারণ মানুষ থেকে পুজো উদ্যোক্তাদের। পুজোর বাজারে বেরিয়ে আচমকা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন ছিল, তেমনই প্রতিমা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে আপাতত সেই আশঙ্কা অনেকটাই কাটতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে মিলেছে স্বস্তির খবর।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ—দুই জায়গাতেই বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাজ্যের কোথাও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও নেই। তবে একেবারে বৃষ্টি হবে না, এমনটা নয়। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন ভাবে এক-দু’পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর কেনাকাটা বা প্রস্তুতির কাজে বৃষ্টির বড়সড় বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।
গত শুক্রবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে রবিবার থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ এবং তীব্রতা কমতে শুরু করেছে। নিম্নচাপের প্রভাবও অনেকটাই কেটে গিয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়ার চরিত্র।
সোমবার কলকাতার আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের প্রথম ভাগে কয়েক দফায় রোদের দেখা মিলতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় দিনের বেলায় গরমের সঙ্গে ভ্যাপসা অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হল, কলকাতায় সোমবার উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ পুজোর কেনাকাটায় বেরনোর ক্ষেত্রে আপাতত বড় কোনও আবহাওয়াজনিত বাধার আশঙ্কা নেই।
রবিবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ২৬.৮ ডিগ্রিতে। ওই দিন শহরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিও হয়নি। ফলে বৃষ্টির দাপট কমার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম দিক থেকে অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বাতাস বাংলায় ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় আগামী দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
দিনের গরম পুরোপুরি কাটবে না, কিন্তু রাতের দিকে আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে। ভোরের দিকে কোনও কোনও জায়গায় হালকা কুয়াশার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে শরতের আমেজ অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে।
নিম্নচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। তবে কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ কোথাও আকাশ মেঘলা হয়ে আচমকা বৃষ্টি নামলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
পুজোর আগে যাঁরা জামাকাপড়, জুতো, সাজসজ্জার সামগ্রী কিংবা অন্যান্য কেনাকাটা সারতে চাইছেন, তাঁদের জন্য এই পূর্বাভাস স্বস্তির। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাইরে বেরনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া নিরাপদ।
উত্তরবঙ্গের ছবিটাও আপাতত স্বস্তির। আগামী কয়েকদিন সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকতে পারে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ সেখানেও ধীরে ধীরে আবহাওয়ায় শরতের ছোঁয়া মিলতে পারে।
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা-সহ গোটা বাংলায় এখন কেনাকাটার মরসুম। শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের বাজার—সব জায়গাতেই ভিড় বাড়ছে। সেই সময়ে টানা বৃষ্টি হলে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা—দু’পক্ষেরই সমস্যা বাড়ত। কিন্তু আপাতত আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস সেই আশঙ্কা কিছুটা কমাচ্ছে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় পুজোর প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ছন্দপতনের আশঙ্কা নেই। তবে বিচ্ছিন্ন হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে ছাতা সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সব মিলিয়ে, বর্ষার শেষ দফার বৃষ্টির দাপট কাটিয়ে ধীরে ধীরে শরতের পথে এগোচ্ছে বাংলা। দিনের বেলা গরম ও আর্দ্রতা থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আর পুজোর কেনাকাটায় বৃষ্টি বড় ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াবে কি না—এই মুহূর্তের পূর্বাভাস বলছে, অন্তত আগামী কয়েকদিন সেই আশঙ্কা অনেকটাই কম।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments