Homeদেশচোখের সামনে ধ্বংস ৩২ পরিবার! মানচিত্র থেকেই কি মুছে যাচ্ছে রিম্বি?

চোখের সামনে ধ্বংস ৩২ পরিবার! মানচিত্র থেকেই কি মুছে যাচ্ছে রিম্বি?

resizeplus_WhatsApp Image 2026-09-27 at 18.40.35 (5)

নিউজ ডেস্ক: টানা বৃষ্টি, হড়পা বান এবং বারবার ভূমিধসে বিপর্যস্ত পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রাম। গ্যালশিং জেলার ইয়ুকসোম-তাশিডিং এলাকার এই পাহাড়ি জনপদে একের পর এক ধসের জেরে অন্তত ৩২টি বাড়ি এবং চারটি সরকারি কোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, প্রশাসনের তরফে রিম্বির বিস্তীর্ণ অংশকে আর নিরাপদ বা বসবাসযোগ্য বলে বিবেচনা করা যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রিম্বির উপর সিংলিতাম পাহাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া ধস বারবার নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। অগস্ট মাস থেকেই এলাকায় ভূমিধসের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং হড়পা বানের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে বড়সড় ধস নামার পর মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বসত এলাকায় ঢুকে পড়ে।

ধসের আশঙ্কায় বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিম্বির গ্রাম প্রশাসন কেন্দ্রের ত্রাণশিবিরে বর্তমানে ১০৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশের সিংলিতাম এলাকাতেও বেশ কয়েকটি বাড়ি খালি করে বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুধু বাড়িঘর নয়, বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। রিম্বি-ইয়ুকসোম এবং রিম্বি-খেচেওপালরি সড়কেও ধস ও বন্যার প্রভাব পড়েছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

সিকিমের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে বাড়ি হারানো পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যাঁদের জমি ধসের কারণে ব্যবহারযোগ্য থাকছে না, তাঁদের বিকল্প জমি ও বাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। যাঁদের জমি এখনও রয়েছে, তাঁদের নতুন বাড়ি তৈরিতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রিম্বির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সমীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। বর্ষা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বহুবিভাগীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার মাধ্যমে ধসের কারণ, মাটির স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতে এলাকাটি বসবাসের উপযোগী রাখা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, RCC কাঠামো থাকা এলাকাগুলিও বর্তমানে নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সিকিম সরকারের পক্ষ থেকেও রিম্বি-সিংলিতাম এলাকায় ভূমিধস পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া এবং রিলিফ সেন্টারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন।

প্রকৃতির এই বিপর্যয়ে আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রিম্বির বাসিন্দারা কবে এবং আদৌ কতটা নিরাপদে নিজেদের ভিটেতে ফিরতে পারবেন? বর্ষা শেষ হওয়ার পর ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার রিপোর্টই সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

পশ্চিম সিকিমের রিম্বি থেকে শুরু করে পাহাড়ি এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের খবরের দিকে নজর রাখছে NGTV News।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved