Homeজেলাপুজো প্যান্ডেলেও আদানি! বাংলার দুর্গোৎসবে কর্পোরেট এন্ট্রি ঘিরে চর্চা

পুজো প্যান্ডেলেও আদানি! বাংলার দুর্গোৎসবে কর্পোরেট এন্ট্রি ঘিরে চর্চা

resizeplus_পুজো প্যান্ডেলেও এবার মোদী-ঘনিষ্ঠ আদা yt

নিউজ ডেস্ক : বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা। তার পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ আদানি গোষ্ঠীর। শিল্প, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি এবার কলকাতার দুর্গোৎসবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা।

২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। বন্দর, লজিস্টিক্স, বিদ্যুৎ, রাস্তা, সেতু, সবুজ সিমেন্ট এবং ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গেই সামনে আসে দুর্গাপুজো ঘিরে আদানি গোষ্ঠীর নতুন উদ্যোগ। ‘Adani Pujo Preview’-এর মাধ্যমে কলকাতার নির্বাচিত আটটি দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ১০ থেকে ১২ অক্টোবর বিশেষ দর্শন-পর্বের আয়োজন করা হবে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগে পুজো উদ্যোক্তা, শিল্পী, কারিগর ও উৎসবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষ উপকৃত হবেন।

শুধু তাই নয়, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা ও আশপাশের আটটি পুজো কমিটিকে ২৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ মোট দুই কোটি টাকা পুজো কমিটিগুলির জন্য বরাদ্দ করার কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।

এর পাশাপাশি কুমারটুলি ঘাটের পুনরুজ্জীবন এবং ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে শিল্প ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য এবং দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রেও গোষ্ঠীটির উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আদানিদের তরফে দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগকে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও উৎসবের পরিসরকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থার ‘Adani Pujo Preview’ ওয়েবসাইটেও কলকাতার দুর্গাপুজোকে আগে থেকে শান্ত ও স্বচ্ছন্দে দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের প্রশ্ন, শিল্প ও বিনিয়োগের পাশাপাশি একটি বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীর বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে এমন উপস্থিতির রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য কী। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, উৎসবের অর্থনীতিতে কর্পোরেট সহযোগিতা এলে পুজো কমিটি, শিল্পী, কারিগর ও পরিষেবা-নির্ভর মানুষের কাছে তার আর্থিক প্রভাব পৌঁছতে পারে।

তবে ‘পুজো দখল’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আদানি গোষ্ঠী এই বছর কলকাতায় নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে এবং আটটি পুজো কমিটিকে আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করেছে।

শিল্প থেকে স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো থেকে এবার দুর্গোৎসব—বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর এই বিস্তৃত উপস্থিতি আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, নজর থাকবে সেই দিকেই।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved