
নিউজ ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে ফের নয়া মোড়। কলকাতা হাই কোর্টে বৃহস্পতিবার শুনানির সময় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে উঠে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ঘটনার পর তাঁদের বাড়িতে একাধিক ব্যক্তি এসে বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি, পরিবারের মুখ বন্ধ রাখতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার মা।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়ের দেহ বাড়িতে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই বাড়ির ভিতরে বাবাকে আলাদা করে নিয়ে গিয়ে তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন এই ভয় দেখানো হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই ঘটনার উদ্দেশ্য কী ছিল—তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্যাতিতার মায়ের দাবি, ঘটনার সময় তাঁদের পরিবারের সামনে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, বিষয়টি যাতে বাইরে প্রকাশ না পায়, সে কারণেই পরিবারকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আতঙ্কের কারণে তাঁরা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিযোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে আরজি কর মামলায় নতুন রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। আদালতের নির্দেশে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্টটি সিল করা খামে জমা দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ নভেম্বর হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় পৃথক একটি এফআইআরও হয়েছে। সেই মামলায় আরজি করের নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহ এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মামলায় প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।
বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছয়নি আদালত। অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
আপাতত আদালতের নজরে রয়েছে পরিবারের অভিযোগ, দেহ দাহের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এবং এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে আর কী তথ্য সামনে আসে—সেদিকেই নজর থাকছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments